চুইংগাম চিবোলে কমবে টেনশন!
টেনশন, এই জিনিসটা আমাদের সবার জীবনেই আসে। ছোট-বড় সবাই কখনো না কখনো দুশ্চিন্তায় ভোগে। কিন্তু ভাবুন তো, যদি এমন একটা চুইংগাম থাকত, যেটা চিবোতে চিবোতে মন শান্ত হয়ে যাবে! মুহূর্তে দূর হয়ে যাবে সব দুশ্চিন্তা।
শুনতে সিনেমার গল্পের মতো লাগলেও, এমনই এক মজার জিনিস তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দুই কিশোর!
তাদের নাম জ্যাকারি নিজকের ও সারা হতি। দুজনই স্কুলশিক্ষার্থী। আর তারা বানিয়েছে এমন একটি বিশেষ চুইংগাম, যা উদ্বেগ বা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
আছে ফুলের জাদু
এই গামের সবচেয়ে চমকপ্রদ উপাদান হলো একটি ফুলের নির্যাস। ফুলটির নাম প্যাসিফ্লোরা ইনকারনাটা, অনেকে একে প্যাশনফ্লাওয়ারও বলে।
বেগুনি রঙের এই সুন্দর ফুলে আছে ‘ফ্ল্যাভোনয়েড’ নামের কিছু প্রাকৃতিক উপাদান। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এসব উপাদান মানুষের মনকে কিছুটা শান্ত করতে সাহায্য করতে পারে।
অনেক দিন ধরেই গবেষকরা এই ফুল নিয়ে কাজ করছেন। আর সেই ভাবনা থেকেই দুই কিশোরের মাথায় আসে নতুন আইডিয়া, এই উপাদান যদি চুইংগামের ভেতরে দেওয়া যায়!
ব্যস! শুরু হয়ে যায় তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
চিবালেই মন শান্ত!
মজার বিষয় হলো, শুধু চুইংগাম চিবানোও নাকি কিছু মানুষের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে! কারণ একই ছন্দে চিবোতে থাকলে মস্তিষ্ক কিছুটা স্থির হয়।
জ্যাকারি বলেছে, হাইস্কুলের অনেক শিক্ষার্থীই নিয়মিত চুইংগাম চিবায়। তাই আমরা ভাবলাম, এটাকেই যদি টেনশন কমানোর সহজ উপায়ে পরিণত করা যায়!
ভাবুন তো—পরীক্ষার আগে সবাই যখন নার্ভাস, তখন কেউ হয়তো ব্যাগ থেকে বের করল ‘ক্যাল্ম গাম’ আর চিবোতে শুরু করল!
দাদির কষ্ট থেকেই আইডিয়া
এই আবিষ্কারের পেছনে আছে একটু আবেগের গল্পও। জ্যাকারির দাদি অনেক দিন ধরে উদ্বেগের সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি ওষুধ খেতেন, কিন্তু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও ছিল।
দাদির কষ্ট দেখে জ্যাকারির মাথায় প্রশ্ন আসে, এমন কোনো সহজ উপায় কি নেই, যেটা মানুষ সহজে ব্যবহার করতে পারবে?
সেই প্রশ্ন থেকেই শুরু হয় তাদের ছোট্ট বৈজ্ঞানিক অভিযান। দুই বন্ধু নিজেরাই বাবলগাম বানানোর চেষ্টা শুরু করে। গামের ভেতরে তারা মেশায় প্যাশনফ্লাওয়ারের নির্যাস, চিনিসহ আরও কিছু উপাদান।
প্রথমে তারা নিজেরাই ফুল থেকে নির্যাস বের করতে চেয়েছিল। কিন্তু তখন ছিল শীতকাল। আশপাশে ফুলই পাওয়া যাচ্ছিল না! শেষ পর্যন্ত দোকান থেকে নির্যাস কিনতে হয়।
বিজ্ঞানীদের জীবন যে সবসময় এত সহজ না, সেটা তখনই বুঝে যায় তারা।
এবার প্রশ্ন হলো—গাম কাজ করছে কি না, সেটা বোঝা যাবে কীভাবে?
তারা তো আর বন্ধুদের বলে দিতে পারে না, এই গামটা খাও তো দেখি টেনশন কমে কি না! তাই ল্যাবে পরীক্ষা শুরু করে।
প্রথমে তারা গাম পানিতে ভিজিয়ে রাখে। কিন্তু তেমন কিছুই হয় না। পরে তারা বুঝতে পারে, বাস্তবে তো মানুষ গাম চিবিয়ে খায়। তখন তারা গাম ছোট ছোট টুকরো করে ‘চিবানোর মতো’ অবস্থা তৈরি করে। আর তখনই দেখা যায়, গাম থেকে দরকারি উপাদান বের হচ্ছে। মানে, তাদের আইডিয়াটা সত্যিই কাজ করেছে।
এই মজার আবিষ্কার নিয়ে তারা অংশ নেয় বিশ্বের বড় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতাগুলোর একটি রিজেনারেশন ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ফেয়ার।
সেখানে তারা চতুর্থ স্থান অর্জন করে এবং পুরস্কারও জিতে নেয়।
দুই কিশোরের ছোট্ট আইডিয়া যে এত দূর পৌঁছে যাবে, সেটা হয়তো শুরুতে তারাও ভাবেনি!
এখন বাজারে এনার্জি গাম আছে, ধূমপান ছাড়ার গামও আছে। কিন্তু মানসিক চাপ কমানোর জন্য বিশেষ গাম খুব একটা দেখা যায় না।
তাই জ্যাকারি ও সারা আশা করছে, একদিন হয়তো পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে, প্রেজেন্টেশনের আগে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো মুহূর্তে মানুষ এই গাম চিবিয়ে একটু শান্ত হতে পারবে।
তবে একটা কথা মনে রাখা দরকার, চুইংগাম খেলেই সব টেনশন জাদুর মতো উধাও হয়ে যাবে, এমন নয়।
কিন্তু বিজ্ঞান, কৌতূহল ও মজার আইডিয়া একসঙ্গে মিললে যে দারুণ কিছু তৈরি হতে পারে, সেটাই দেখিয়ে দিল এই দুই কিশোর।
সূত্র: সায়েন্স নিউজ


