বজ্রপাতে ৬ জেলায় নারী-শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু, আহত ৮

নিজস্ব সংবাদদাতা, বগুড়া, জামালপুর ও ঠাকুরগাঁও

বজ্রপাতে গাইবান্ধা, বগুড়া, নাটোর, জামালপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় নারী-শিশুসহ অন্তত ১০ জন মারা গেছে।

এছাড়া আরও ৮ জন বজ্রাঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

আজ রোববার বিভিন্ন সময়ে এ ঘটনা ঘটে।

গাইবান্ধা

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে বজ্রপাতে এক শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তারা হলেন ধোপাডাঙ্গা গ্রামের ফুয়াদ চৌধুরী (৩৩), ছোটন চৌধুরীর ছেলে রাফি চৌধুরী (১২) ও নবীর হোসেনের ছেলে মিজানুর রহমান (২০)।

এদিকে, গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আসিফ-উর-রহমান জানান, বজ্রপাতে আহত হয়ে দুজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

আহত শামীম মিয়া (১৮) একই গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার ছেলে।

ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোখলেছুর রহমান মন্ডল স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, 'বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় তারা বাড়ির পাশের একটি রাস্তায় অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ আকস্মিক বজ্রপাত তাদের ওপর আঘাত হানলে ঘটনাস্থলেই ৩ জনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে কাছাকাছি থাকা একটি গরুও মারা যায়।'

ফুলছড়ি উপজেলায় ভুট্টা পরিবহনের সময় বজ্রপাতের আঘাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

মৃত মানিক প্রামানিক (১৯) উপজেলার চর জামিরার শুক্কুর প্রামানিকের ছেলে ছিলেন।

ফুলছড়ি থানার ওসি দুরুল হুদা জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মানিক ঘোড়ার গাড়িতে ভুট্টা পরিবহনের সময় বজ্রপাতে আহত হন। 
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে বিকেল সাড়ে ৪টায় সেখানে তার মৃত্যু হয়।

বজ্রপাতের আঘাতে মানিকের ঘোড়াও ঘটনাস্থলে মারা যায় বলে জানান ওসি।

বগুড়া

বগুড়ার গাবতলীতে বজ্রপাতে এক যুবক মারা গেছেন। আজ রোববার বিকেলে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গাবতলী মডেল থানার ওসি রাকিব হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মৃত সুমন (৩৫) মুচিখালী গ্রামের মো. আবদুল করিমের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এলাকায় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বাড়ির পাশের জমিতে থাকা ছাগল আনতে যান সুমন। জমিতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

ওসি বলেন, 'খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।'

নাটোর

নাটোরের সিংড়ায় বজ্রপাতে একজন মারা গেছেন। মৃত মো. সম্রাট মিয়া (২৬) কৃষি শ্রমিক ছিলেন।

সিংড়া থানার ওসি রাকিবুল ইসলাম জানান, উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের একটি মাঠে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আহত হন সম্রাট। চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাটোর সদর হাপাতালে বিকেল সাড়ে ৪টায় তিনি মারা যান।

সম্রাট সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার নগরডালা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন বলে জানান ওসি।

ওসি বলেন, 'সম্রাটসহ ১৫-২০ জন শ্রমিক কয়েকদিন আগে সিরাজগঞ্জ থেকে চলনবিলে ধান কাটার জন্য যান। আজ বিকেলে হটাৎ ঝড় ও বজ্রপাতের সময় শ্রমিকরা বিশ্রামের ঘরে আশ্রয় নেন। কিন্তু সম্রাট বজ্রপাতে আহত হলে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।'

জামালপুর

জামালপুরের দুই উপজেলায় বজ্রপাতে এক নারীসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৪ জন।

নিহতরা হলেন—সদর উপজেলার হাশমত আলী হাসু (৪৫) ও মেলান্দহ উপজেলার মর্জিনা বেগম (২২)।

জামালপুর সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আক্তার দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, বিকেল ৩টার দিকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীর চর ইউনিয়নের চর যথার্থপুর এলাকায় বজ্রপাতে একজন মারা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসু মাঠ থেকে গবাদিপশু নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

একই ঘটনায় আনোয়ার হোসেন (৩৪), শাওন (২৫) ও সুখী (১৪) নামে আরও তিনজন আহত হয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মেলান্দহ থানার ওসি ওবায়দুর রহমান জানান, বজ্রপাতে মর্জিনা বেগম নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, ঝড় ও বজ্রপাতের সময় মর্জিনা বাড়ির উঠানে রান্না করছিলেন। হঠাৎ বজ্রাঘাতে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় শেফালী বেগম (২৮) নামে আরও এক নারী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঠাকুরগাঁও

জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় বিকেলে ধানখেত থেকে ফেরার সময় বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

মৃত সেলিনা আক্তার লাবনী (৩৫) নামে নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

পীরগঞ্জ থানার ওসি জানান, বিকেলে লাবনী বাড়ির পাশের একটি ধানখেতে গিয়েছিলেন। বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

পঞ্চগড়

জেলার আটোয়ারীতে বজ্রপাতে এক চা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।

আজ সকালে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

মৃত চা শ্রমিক সারোয়ার্দী (২১) ওই গ্রামের আবু সামাদের ছেলে ছিলেন।

আটোয়ারী থানার ওসি মতিয়ার রহমান জানান, সারোয়ার্দীসহ কয়েকজন শ্রমিক বাগানে চা পাতা সংগ্রহ করতে যান। সকাল পৌনে ৯টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে তারা বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই সারোয়ার্দীর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় একই গ্রামের মোস্তফা (৪৫) ও জহিরুল (৪৩) আহত হলে তাদের পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ধামোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের মো. দুলাল বলেন, মাত্র আট দিন আগে সারোয়ার্দীর বিয়ে হয়েছিল।