মাধবদীতে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আহম্মদ আলীকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার
নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরী ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আহম্মদ আলী দেওয়ানকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে স্থানীয় বিএনপি। তিনি সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। গতকাল শুক্রবার রাতে তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
এদিকে এ মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে (২৮) গাজীপুরের মাওনা থেকে এবং হযরত আলী নামে আরও এক আসামিকে ময়মনসিংহের গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় মোট ৯ জন আসামির মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক এ মামলার ৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মহিষাশুড়া ইউনিয়নের সাবেক সদস্য ও বিএনপি নেতা আহম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), তার ছেলে ইমরান দেওয়ান (২৫), প্রধান আসামি নূরার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব (৩৬), এবায়দুল্লাহ (৩৮) ও হোসেন বাজার এলাকার আবদুল গাফফার (৪০)।
গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মহিষাশুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
নিহত কিশোরী একটি পোশাক কারখানায় কাজ করত এবং পরিবারের সঙ্গে মাধবদীর দড়িকান্দি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। কিশোরীর বাবা আশরাফ হোসেনের অভিযোগ, প্রায় ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে ছয় যুবকের একটি দল তার মেয়েকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় মামলা করতে চাইলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং থানায় যাওয়ার পথে আটকে দেওয়া হয়।
বাধ্য হয়ে তারা বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলীকে জানান। আশরাফ হোসেনের অভিযোগ, সালিশের নামে আহম্মদ আলী অভিযুক্তদের সঙ্গে সমঝোতা করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার জন্য চাপ দেন। কিন্তু প্রধান আসামি নূরা এরপরও মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন।
নিরাপত্তাহীনতায় মেয়েকে অন্যত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। কিন্তু গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মেয়েকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে বরইতলা এলাকা থেকে নূরা ও তার সহযোগীরা তাকে অপহরণ করেন। অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আশরাফ হোসেন আবারও আহম্মদ আলীকে বিষয়টি জানান। কিন্তু কোনো প্রতিকার মেলেনি। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে একটি সরিষা ক্ষেতে মেয়েটির মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহতের বাবার অভিযোগ, ‘তারা আমার মেয়েকে পুনরায় ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই কিশোরীকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে কিশোরীর মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সুজন চন্দ্র সরকার জানান, কিশোরীর মরদেহ গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। বর্তমানে মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
