ভোলার ঘটনায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বিএনপির বাধা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভোলার ঘটনায় রাজনৈতিক দল হিসেবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বিএনপির কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
আজ বৃহস্পতিবার নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ভাসানচর পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
ভোলা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'ভোলার ঘটনায় তারা রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে আইনগত কোনো বাধা নেই। তারা তাদের দাবি আদায়ে কর্মসূচি পালন করবে। তবে জনগনের শান্তি বিঘ্ন ও দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থি ধ্বংসাত্মক কোনো কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে হেলিকপ্টারে ভাসানচর নেভি হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এ সময় ভাসানচরের প্রকল্প পরিচালক এম. রাশেদ সাত্তার, জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান, পুলিশের চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি ইকবাল হোসেন এবং নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম মন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) কার্যালয়ের ডিআইও-১ মোস্তাফিজুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
নোয়াখালী পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বেলা আড়াইটার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকাটি ড্রোনের মাধ্যমে নিরীক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'ভাসানচরের পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় ভাসানচরে থানা স্থাপন করা হয়েছে। এ এলাকার নৌপথ নিরাপদ রাখার জন্য কোষ্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো ভাসানচর এলাকাকে নিরীক্ষণের জন্য ড্রোন সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য খাবার, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ভাসানচরে রয়েছে।'
'আমরা চাচ্ছি রোহিঙ্গারা কক্সবাজার থেকে ধীরে ধীরে ভাসানচরে আসুক। এখানে খাবার দিচ্ছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর)। এর বাইরে আমরা যাবতীয় সবকিছুর যোগান দিচ্ছি,' বলেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, 'রোহিঙ্গারা যেন পালিয়ে যেতে না পারে এবং কোনো দালালের খপ্পরে না পড়তে পারে সেজন্য কোস্টগার্ড কাজ করছেন। এছাড়া তারা যেন কোনো দালালের ফাঁদে না পড়ে এবং ভুল তথ্য দিয়ে যেন মানবপাচারকারীরা রোহিঙ্গাদের নিয়ে যেতে না পারে তা দেখাশোনা করবে কোস্টগার্ড।'
তিনি বলেন, 'ড্রোন দিয়ে কোস্টগার্ড সবকিছু মনিটরিং করবে। তাদের হাতে সবকিছু ন্যস্ত করা হয়েছে। আমরা চাই রোহিঙ্গারা যেন নির্ভয়ে এখানে বসবাস করতে পারে এবং শিগগিরই যেন মিয়ানমারে চলে যেতে পারে।'