চাকরির জন্য দেওয়া টাকা আদায়ে মরদেহ নিয়ে মাদরাসা সভাপতির বাসায়
ছেলের চাকরির জন্য পঞ্চগড়ের একটি মাদরাসার পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি মো. জুলফিকার আলী প্রধানকে কয়েক দফায় ১৩ লাখ টাকা দিয়েছিলেন দবিরুল ইসলাম। কিন্তু তার ছেলের চাকরি হয়নি। বার বার ধরনা দিয়ে টাকাও ফেরত পাননি তিনি।
স্ট্রোকে আক্রান্ত দবিরুল গতকাল বৃহস্পতিবার রংপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে পাওনা টাকা আদায়ে পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ নিয়ে জুলফিকার আলী প্রধানের বাসভবনে অবস্থান নেন।
সেখানে ৭ ঘণ্টা অবস্থানের পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে দবিরুলের পরিবারকে নগদ ১ লাখ টাকা ও ৫ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। এরপর আজ শুক্রবার সকালে দাফন সম্পন্ন হয় তার।
ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের প্রধানপাড়া গ্রামে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ২ বছর আগে দবিরুল ইসলামের বড় ছেলে জাকিরুল ইসলাম প্রধানকে স্থানীয় প্রধানপাড়া দারুল ফালাহ দাখিল মাদরাসায় গ্রন্থাগারিক পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন পরিচালনা পর্ষদের তখনকার সভাপতি জুলফিকার আলী প্রধান। এ জন্য কয়েক দফায় তিনি দবিরুলের কাছ থেকে প্রায় ১৩ লাখ টাকা নেন।
২ মাস আগে জুলফিকার আলীর সভাপতির মেয়াদ শেষ হয়। এ সময়ের মধ্যে জাকিরুলের চাকরিও হয়নি। এ অবস্থায় পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য জুলফিকারকে চাপ দিতে থাকেন দবিরুল ও তার পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার বদলে দবিরুলকে অপমান করেন জুলফিকার। লাঞ্ছনার শিকার দবিরুল গত ১৩ জুলাই স্ট্রোক করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
শেষমেষ পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য ২ আগস্ট পঞ্চগড়ের জেলা পুলিশ সুপারকে (এসপি) বিষয়টি অবহিত করেন দবিরুলের ছেলে মো. আব্দুস সবুর প্রধান ।
এরমধ্যে দবিরুল আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি মারা যান।
পরে টাকা ফেরতের দাবিতে রাত সাড়ে ৮টার দবিরুলের মরদেহ নিয়ে জুলফিকারের বাড়িতে অবস্থান নেন তার স্বজনরা। এ সময় জুলফিকার ঘরে তালা লাগিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাইরে চলে যান।
এরপর সমঝোতা হলে রাত আড়াইটার দিকে দবিরুলের মরদেহ তার নিজ বাড়িতে আনা হয়।
এ ব্যাপারে পঞ্চগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ মিঞা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা বসে সমাধান করেছেন। শুক্রবার সকালে জানাজা শেষে মৃত ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন হয়েছে।'
বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য জুলফিকার আলী প্রধানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।