সংসদে অর্থমন্ত্রী

‘খেলাপি ঋণের আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা কৌশলে পাশ কাটিয়ে প্রকৃত চিত্র গোপন করা হয়েছে’

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

আন্তর্জাতিকভাবে অনুসৃত খেলাপি ঋণের সংজ্ঞাকে কৌশলে পাশ কাটিয়ে ভুলভাবে প্রদর্শন করে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকৃত চিত্র গোপন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ শুক্রবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে তিনি আওয়ামী লীগ ও এর আগে বিএনপির শাসনামলে অর্থনৈতিক বিভিন্ন সূচকের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলোর পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ধ্বংস করা, যা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার সুনিপুণভাবে করে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের ঘাটতি, ঋণখেলাপি বৃদ্ধি ও তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে খ্যাত আর্থিক খাত ধ্বংসের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত অবস্থা বোঝার জন্য দুটি সূচক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণের হার এবং মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত (সিএআর)।’

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এসে সেই চিত্র আমূল পাল্টে গেছে। সামগ্রিক খেলাপি ঋণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। এখানে উল্লেখ্য, খেলাপি ঋণের আন্তর্জাতিকভাবে অনুসৃত সংজ্ঞাকে কৌশলে পাশ কাটিয়ে ভুলভাবে প্রদর্শন করে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকৃত চিত্র গোপন করা হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

মূলধন পর্যাপ্ততার চিত্র আরও উদ্বেগজনক মন্তব্য করে আমীর খসরু বলেন, ‘২০০৫ সালে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে সিএআর ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ২০২৪ সালে যা ৩ দশমিক ০৮ শতাংশে নেমে আসে। মূলধন পর্যাপ্ততা ঋণাত্মক হওয়ার অর্থ হলো, এই ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছিল। এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি দীর্ঘ দেড় দশকের অব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ প্রদান, সুশাসন ও জবাবদিহিতার অনুপস্থিতির অনিবার্য পরিণতি।’

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধতার কারণে নীতি-নির্ধারণে সময়োপযোগী ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রাপ্তি অনেক ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। বলেন, ‘রপ্তানির ক্ষেত্রে ১০ বিলিয়ন ডলার অতিরঞ্জনের একটি তথ্য বিভ্রাট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। সম্প্রতি সেটি সংশোধন করা হয়েছে।’