বিগত সরকারগুলো ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় টিকা রেখে যায়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বিগত সরকারগুলোর ব্যর্থতার কারণে আমাদের টিকার সরবরাহ লাইন দুর্বল ছিল। তারা ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় টিকা রেখে যায়নি।  

আজ সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জিন্দা পার্কের লিটল অ্যাঞ্জেল সেমিনারিতে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশব্যাপী জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ করে যখন হামের সংক্রমণ শুরু হলো, আমরা তড়িৎগতিতে কাজ শুরু করেছি। যে রাতে একজন শিশু সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে মারা গেল, সে রাতেই আমরা সেখানে গিয়েছি। ১৮ ঘণ্টার মধ্যে, যদিও এটি খুবই কঠিন কাজ ছিল, তারপরও আমরা সেখানে একটি আইসিইউ খুলেছি। পরবর্তী সময়ে দেশের অনেক জায়গায় ভেন্টিলেটর দিয়েছি।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাম হওয়ার পরে যখন নিউমোনিয়া হয়, ফুসফুস কনজাস্টেড হয়ে যায়। তখন অক্সিজেন ইনফ্লো-আউটফ্লোর জন্য ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন হয়। আমরা সেই ভেন্টিলেটরও দিয়েছি। এটিই সবচেয়ে বড় দরকারি জিনিস ছিল। যদিও এতে আমাদের খুবই ঘাটতি ছিল।

তিনি বলেন, বিগত সরকারগুলো উদ্দেশ্যমূলকভাবে হোক আর ভুলবশত হোক টিকার সরবরাহ লাইন একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা ইউনিসেফ, গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছি। করোনার সময়ে ৬০৪ কোটি ও ৪১৯ কোটি টাকার অব্যবহৃত তহবিল ছিল, যা আমরা হাতে পেয়েছি। এডিবির মাধ্যমে আমরা অগ্রিম টাকা দিয়েছি। গ্যাভি আমাদের তাদের স্টক থেকে সিরিঞ্জ ও টিকা দিয়েছে। আমাদের হাতে এখন প্রয়োজনীয় সবকিছু আছে।

‘হামের জন্য যে ১৮টি জেলা ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চিহ্নিত করেছে, সে জেলাগুলোর ৩০টি উপজেলায় আমরা চলতি মাসের ৪ ও ৫ তারিখ থেকে ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করেছি। গত ১২ এপ্রিল আমরা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে শিশুদের ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করেছি। আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে’, বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঢাকাতে হামের প্রাদুর্ভাব কম। আপনারা প্রতিদিন যে রোগীর কথা শুনছেন, তাদের বেশিরভাগই গ্রামের এলাকা থেকে আসছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে গেছে, হাম হলে শিশু মারা যাবে এমন ভেবে সবাই ঢাকায় ছুটে আসছে। তারপরও ঢাকা একটি মাত্রাতিরিক্ত ঘনবসতির শহর হওয়ায় আমরা ঢাকাতেও টিকা কর্মসূচিতে নিয়ে এসেছি।

মন্ত্রী বলেন, এখনো দেশে জরুরি ঘোষণা করার মতো অবস্থা হয়নি। হামের সংক্রমণ যেভাবে এগিয়েছিল, আশা করি, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে টিকা দেওয়ার কাজ এগিয়ে গেলে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যাও কমে আসবে। যারা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বলে, আমি জানি না কেন বলেছে। এখানে সিভিল সার্জন আমাকে বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে হামের একজন রোগীও নেই। জরুরি পরিস্থিতি তখনই হয় যখন একটি দেশের মোট জনগোষ্ঠী আক্রান্ত হয়ে যায়। করোনার সময়ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা হয়নি। তখন সেটি আরও জটিল ছিল।

এমন পরিস্থিতি কবে শেষ হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একটি দুর্যোগ কতদিনের মধ্যে শেষ হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। কিন্তু আমরা টিকাদান করে যাচ্ছি। যখন আমরা বেশিরভাগ শিশুকে টিকাদান কর্মসূচির মধ্যে আনতে পারব তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এটি কমে আসবে। যেই হারে হাম বৃদ্ধি হচ্ছিল, সেই হারও কমে আসছে।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পরে টিকাদানের যে কাজ চার বছর পর হওয়ার কথা ছিল, বিগত সরকার তা করেনি। এ কারণে বিশাল সংখ্যক শিশু টিকা পায়নি। ফলে তারা হামে আক্রান্ত হয়েছে। ৫ এপ্রিল থেকে আমরা টিকাদান শুরু করেছি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘যেসব এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়েছে, সেসব এলাকা চিহ্নিত করে আমরা ৮৫ শতাংশ শিশুকে টিকা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে এসেছি। সিটি করপোরেশনও সেটি হচ্ছে।  

দেশে জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসকের অপ্রতুলতা ও মেডিকেল সরঞ্জামাদির সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে ১৮ থেকে ২০ কোটি লোক। এর মধ্যে কয়জন আর ডাক্তার আছেন? পরশুদিনও আমরা মিটিং করেছি, আবার স্পেশাল বিসিএস করে ডাক্তার নেওয়ার জন্য। হাসপাতালে সরঞ্জামাদি আছে, তবে পর্যাপ্ত আছে এটা বলব না।