ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার ইউএনও
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহ কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক।
এ সময় তৈবুল ইসলাম নামে ইউএনওর নিরাপত্তায় থাকা এক আনসার সদস্যও আহত হন।
আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ভাউলাগঞ্জ এলাকার জান্নাতুল মাওয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ইউএনও সবুজ কুমার বসাক মুঠোফোনে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আজ সকাল থেকে উপজেলার তিনটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহের কথা ছিল। দুপুরে তিনি সেগুলো পরিদর্শনে বের হন। এ সময় খবর পান, ভাউলাগঞ্জের জান্নাতুল মাওয়া ফিলিং স্টেশনে বিশৃঙ্খলার কারণে এখনো তেল বিতরণ শুরু হয়নি।
তিনি বলেন, ‘শুনলাম, লাইনে অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেল আরোহীদের অনেকেই ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। পরে সেখানে পৌঁছে দেখতে পাই, মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। আমি লাইনের শেষ প্রান্তে গিয়ে যাদের ফুয়েল কার্ড নেই তাদের চলে যেতে বলি। এ সময় কয়েকজন চলে যান।’
তিনি আরও বলেন, ‘এক মোটরসাইকেল আরোহীর কাছে ফুয়েল কার্ড ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ৫০০ টাকা জরিমানাও করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর দূর থেকে একদল লোক মিছিলের মতো করে এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
ইউএনও জানান, স্থানীয় কয়েকজন ইউএনওকে উদ্ধার করে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যান। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।
আহত আনসার সদস্য দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ইউএনও বলেন, ‘ঘটনাটি আমার কাছে পূর্বপরিকল্পিত মনে হয়েছে। কারণ, এই ঘটনার আগে কারো সঙ্গে কোনো বাগবিতণ্ডা হয়নি। হঠাৎ করেই তারা এসে হামলা চালায়।’
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে ধারণ করা ভিডিও কিছু ব্যক্তির কাছ থেকে জোর করে মুঠোফোন নিয়ে মুছে ফেলা হয়েছে।
এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মলিক বলেন, ‘খবর পেয়ে ওই ফিলিং ষ্টেশনের পাশের একটি বাড়ি থেকে ইউএনওকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।’
ঘটনার পর ফিলিং স্টেশনটিতে জ্বালানি তেল বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।