বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ, সরিয়ে দিলো পুলিশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় চলতি মাসের বেতন ও অর্জিত ছুটির পাওনা পরিশোধের দাবিতে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।  

আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার টিপরদী এলাকায় ‘চৈতি কম্পোজিট লিমিটেড’ কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

শিল্প পুলিশ-৪ এর গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক আনোয়ারুল হক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, দুপুর ১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মহাসড়কটি অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কারখানার শ্রমিকেরা। পরে শিল্প পুলিশ, জেলা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ তৎপরতায় শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, এ সময় টিয়ার শেল ও ফাঁকা রাবার বুলেট ছোড়া হয়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ ডেইলি স্টারকে বলেন, শ্রমিকেরা মহাসড়ক ছেড়ে দিলেও যান চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও আধা ঘণ্টা সময় লাগে।

কারখানার শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চৈতি কম্পোজিটের মালিকপক্ষ চলতি মাসের অর্ধেক বেতন পরিশোধ করলেও পুরো মাসের বেতন ও অর্জিত ছুটির বকেয়া দাবিতে কয়েকদিন ধরে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছিল। সকালেই তারা পূর্ণ বেতন ও ছুটির বকেয়া পরিশোধের দাবিতে কারখানার সামনে জড়ো হন। পরে দুপুরে একপর্যায়ে তারা মহাসড়কে নেমে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন।

এ বিষয়ে চৈতি কম্পোজিট কারখানার জেনারেল ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত মাসের বেতনের সঙ্গে চলতি মাসের অর্ধেক বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। এরপরও অযৌক্তিক দাবিতে পুরো মাস শেষ হওয়ার আগেই তারা বেতন দাবি করছেন। আমরা বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিলেও তারা তা না মেনে রাস্তায় নেমে আসেন।’

এদিকে, কারখানার পক্ষ থেকে এক নোটিশে জানানো হয়েছে, ঈদের পর আগামী ৩ জুনে মে মাসের পুরো বেতন ও অন্যান্য পাওনাদি পরিশোধ করা হবে।

বিকেলে সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার ডেইলি স্টারকে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক।