বাউফলে উপজেলা যুবদল সভাপতির বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ভাঙার অভিযোগ
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদল সভাপতি গাজী গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
আজ শনিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার কালাইয়া বাজারের হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছর আগে কালাইয়া বাজারের মহাজনপট্টি জামে মসজিদের পাশের ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে কেনা হয়। ওই জমিতে নির্মিত দোকানঘরগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া দেওয়া হচ্ছিল। ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় সেগুলো ভেঙে বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।
তিনি বলেন, আজ শ্রমিকরা প্রায় আট ফুট উঁচু ও ৩৫ ফুট দীর্ঘ একটি ইটের দেয়াল নির্মাণের কাজ করছিলেন। এ সময় বাউফল উপজেলা যুবদলের সভাপতি গাজী গিয়াস উদ্দিন কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে এসে হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে দেয়ালটি ভেঙে ফেলেন।
হারুন অর রশিদ বলেন, এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয়ের সভাপতি সালেহ আহমেদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ের জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজের সময় যুবদল নেতা গাজী গিয়াস উদ্দিন লোকজন নিয়ে এসে দেয়ালটি ভেঙে দেন।
তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের জায়গা রেখে বর্তমানে প্রায় আট ফুট প্রশস্ত একটি সড়ক রয়েছে, যা যানবাহন ও মানুষের চলাচলের জন্য যথেষ্ট।
জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে গাজী গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘জনস্বার্থে এলাকাবাসীই দেয়ালটি ভেঙেছে। আমি শুধু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম।’
ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘যেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছিল, সেটি জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি চলাচলের পথ। ওই পথে দুটি মসজিদ, দুটি মন্দির ও দুটি মার্কেট রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরু রাস্তার কারণে মানুষ ও যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সেখানে দেয়াল নির্মাণ করা হলে রাস্তা আরও সংকুচিত হয়ে যেত। এ কারণে এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে দেয়াল নির্মাণের প্রতিবাদ জানায় এবং তারাই দেয়ালটি ভেঙে দেয়।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ ডেইলি স্টারকে বলেন, বিষয়টি জানার পর সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।