বিরোধী দলকে বিভ্রান্ত করতে কৌশল নিয়েছে সরকার: জামায়াত আমির

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বিএনপি সরকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘তারা আমাদের সম্ভবত শিশু মনে করেন।’

সংসদে বিল পাস ও অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি ঘিরে ‘ওয়াদা ভঙ্গ’ ও ‘আস্থাহীনতার’ অভিযোগ তুলে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার পর এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারি দল বিরোধী দলকে বিভ্রান্ত করতে কৌশল নিয়েছে। একটা কমলালেবু হাতে নিয়ে শিশুকে যদি নেড়েচেড়ে দেখানো হয়, সে বুঝতে পারে না সেটা আসল না প্লাস্টিক। তখন সে সেটার দিকে দৌড় দেয়। তারা হয়তো আমাদের সেরকম শিশু ভেবেছে।’

ব্রিফিংয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দিনের অধিবেশনে থাকার চেষ্টা করেও পরিস্থিতির কারণে বিরোধী দল থাকতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ একাধিক অধ্যাদেশ বিল আকারে পাসের বিষয়ে সরকার পূর্বের সমঝোতা ভঙ্গ করেছে।’

নাহিদ ইসলাম জানান, বিশেষ কমিটিতে ৯৮টি অধ্যাদেশ নিয়ে ঐকমত্য হয়েছিল—যেগুলো আপত্তি ছাড়া পাস হওয়ার কথা ছিল। আর যেগুলোতে ভিন্নমত ছিল, সেগুলো আলাদাভাবে আলোচনায় আনার কথা ছিল।

‘কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল পাসের মাত্র আধা ঘণ্টা আগে হঠাৎ একটি সংশোধনী আনা হয়, যা আমাদের না জানিয়ে পাস করানো হয়েছে’, বলেন তিনি।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ আলোচনা ছাড়াই ল্যাপস হয়ে যাচ্ছে, যদিও আগে সিদ্ধান্ত ছিল প্রয়োজনে রাত ১২টা পর্যন্ত বসে সেগুলো নিষ্পত্তি করা হবে।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের পর তা যাচাইয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা ছিলেন। কিন্তু সেই কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন বিরোধী সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে।’

‘এটাই আস্থাভঙ্গের শুরু। যৌথভাবে বা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এটি চূড়ান্ত করা উচিত ছিল’, বলেন তিনি।

জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে স্পিকার আশ্বাস দিয়েছিলেন—সব অধ্যাদেশ সংসদে আলোচনা হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনার সুযোগ না দিয়েই বাদ দেওয়া হয়েছে।’

দুদক, পুলিশ সংস্কার, গুম কমিশন ও পিএসসি সংক্রান্ত বিলসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলো আনা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিলের সংশোধনী নিয়েও আপত্তি তুলে শফিকুর বলেন, ‘বিরোধী দলকে না জানিয়ে শেষ মুহূর্তে সংশোধনী আনা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই তা পাস করা হয়েছে।’

‘আমাদের হাতে এক ঘণ্টা আগে এক বস্তা কাগজ দেওয়া হয়েছে। যেগুলো আমরা দেখিনি, বুঝিনি—সেগুলো নিয়ে কীভাবে মতামত দেবো?’ ,প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বিরোধী দলীয় দুই নেতা বলেন, সংসদে বারবার ওয়াদা ভঙ্গ ও প্রক্রিয়াগত অনিয়মের প্রতিবাদেই তারা ওয়াকআউট করেছেন। একই সঙ্গে তারা জনগণের অধিকারের প্রশ্নে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।