পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে ১১ দলের ২ দিনের কর্মসূচি
ভারতের সীমান্তে ‘পুশ ইন’ এবং বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা বন্ধের দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১২ জুন দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ এবং ১৫ জুন ঢাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
আজ বুধবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও বক্তব্য রাখেন।
আযাদ অভিযোগ করেন, সীমান্ত হত্যা দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও বর্তমান সরকারের আমলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। জাতীয় সংবাদপত্রগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চলতি বছরের মার্চ, এপ্রিল ও মে—এই তিন মাসে সীমান্তের ৫০টির বেশি স্থানে ২ হাজার ৪৭৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে ১৯ জন বাংলাদেশি নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া, বিএসএফ ও মিয়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে ৮৩ জন আটক বা অপহরণের শিকার হয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের সমালোচনা করে আযাদ বলেন, ‘সীমান্তে কাউকে হত্যা করার কোনো আইনগত বিধান নেই। কেউ অপরাধ করলেও তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে। সরাসরি গুলি করে হত্যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত।’
তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কার্যকর ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন ছিলাম, আছি এবং থাকব। যেকোনো মূল্যে পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হবে।’
১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী ১২ জুন সীমান্তবর্তী জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচিতে ১১ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা অংশ নেবেন। এছাড়া, ১৫ জুন রাজধানী ঢাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, শূন্যরেখার কাছে মানবিক সংকটের মুখে পড়া লোকজনকে খাবার ও পানির জন্য অনুরোধ করতে দেখা গেছে।
তিনি সীমান্তে নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘পুশ ইন ঠেকাতে বিজিবিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের জনগণকে মানবপ্রাচীর গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো সন্ত্রাসী, চোরাকারবারি বা অপরাধী বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সরকারের কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্যের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতিকে কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ‘এখানে বাংলাদেশের মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব জড়িত,’ যোগ করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘১৯৭১ সালে যেমন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, তেমনই সীমান্তে যদি কোনো রাষ্ট্র বা বাহিনী বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করে, তাহলে দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইন বন্ধে সরকারকে আরও সক্রিয় কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি নিতে বলেন তারা।