বিফলে সৌম্যের ফিফটি, মুশফিক-মোসাদ্দেকে জয়ে ফিরল আবাহনী
সৌম্য সরকার ও শেখ মেহেদী হাসানের ব্যাটে উড়ন্ত শুরু পেয়েছিল গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। এই জুটি ভেঙে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরল ঢাকা আবাহনী। লক্ষ্য নাগালে রেখে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের জোড়া হাফসেঞ্চুরিতে তারা পেল অনায়াস জয়।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে উইকেটে ৭ জিতেছে আবাহনী। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বাঁহাতি সৌম্যের টানা দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটে ১৫০ রান তোলে গাজী। জবাবে ১২ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটে ১৫৩ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে তারকাখচিত আবাহনী।
অভিজ্ঞ তারকা মুশফিক ৩৫ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ছিল ৪ চার ও ১ ছক্কা। তার সঙ্গী মোসাদ্দেক মাঠ ছাড়েন ২৮ বলে ৫০ রানে। তিনি মারেন ৪ চার ও ৩ ছক্কা। তাদের অবিচ্ছিন্ন চতুর্থ উইকেট জুটিতে আসে ১০৫ রান।
আসরে পাঁচ ম্যাচে আকাশি-নীলদের এটি চতুর্থ জয়। আগের ম্যাচে বিকেএসপিতে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির কাছে ৮ রানে হেরেছিল তারা। ৮ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে পয়েন্ট তালিকার তিনে। পাঁচ ম্যাচে তৃতীয় হারে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গাজী আছে নবম স্থানে।
প্রথম থেকেই আবাহনীর বোলারদের ওপর চড়াও হন গাজীর দুই ওপেনার। প্রায় প্রতি ওভারেই বাউন্ডারি হাঁকান তারা। পাওয়ার প্লেতে অবিচ্ছিন্ন থেকে শেখ মেহেদী ও সৌম্য আনেন ৫৭ রান।
নবম ওভারে বল হাতে নিয়ে এই জুটি ভাঙেন লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম। তার নির্বিষ ডেলিভারিতে টাইমিংয়ে গড়বড় করে আরাফাত সানিকে ক্যাচ দেন দারুণ খেলতে থাকা শেখ মেহেদী। তার ব্যাট থেকে আসে ৩২ বলে ৪৩ রান। ৭ চারের সঙ্গে তিনি মারেন ১ ছক্কা।
৭৮ রানের উদ্বোধনী জুটির পর আর কোনো ভালো জুটি পায়নি গাজী। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। ফলে শুরুর ভিত কাজে লাগিয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হয় তারা। ইয়াসির আলী রাব্বি মানিয়ে নিতে পারেননি। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ফেরেন দ্রুত।
প্রথম ১০ ওভারে ১ উইকেটে ৮৩ রান তোলা গাজী পরের ১০ ওভারে তোলে মোটে ৬৭ রান। সেসময়ে তারা হারায় ৭ উইকেট। সবচেয়ে বড় ছন্দপতন হয় শেষ ৫ ওভারে। স্কোরবোর্ডে ২৫ রান যোগ করতে পতন হয় দলটির ৫ উইকেটের।
এক প্রান্ত আগলে থাকা সৌম্য শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে করেন ৫০ বলে ৬৭ রান। তিনি ফিফটিতে পৌঁছেছিলেন ৩৫ ডেলিভারিতে। পেসার শহিদুল ইসলামের ফুলটস উড়িয়ে মারতে গিয়ে তিনি তালুবন্দি হন নাঈম শেখের। তার ইনিংসে ছিল ৬ চার ও ২ ছক্কা। এছাড়া, দুই অঙ্কে পৌঁছান কেবল মুমিনুল হক (৯ বলে ১২ রান)।
আমিনুল ৪ ওভারে ১৯ রানে নেন ২ উইকেট। সমানসংখ্যক উইকেট নেওয়া শহিদুল ছিলেন খরুচে। প্রথম ৩ ওভারে ৩৮ রান দিলেও তার শেষ ওভার থেকে আসে মোটে ৩ রান, পড়ে ৩ উইকেট। ইনিংসের শেষ বলে রানআউট হন মুকিদুল ইসলাম।
লক্ষ্য তাড়ায় আবাহনী পায়নি কাঙ্ক্ষিত শুরু। চতুর্থ ওভারে দলীয় ২২ রানে বিদায় নেন নাঈম। এক ম্যাচ পর আবারও রান না পেয়ে মাঠ ছাড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত। ওপেনার মুনিম শাহরিয়ারকে ব্যাটে-বলে সংযোগ ঘটাতে লড়াই করতে হয়। ক্রিজে অনেকটা সময় কাটিয়ে তিনি ২ চারে ২৮ রান করেন ৩৩ বলে।
নবম ওভারে ৪৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়া আবাহনী এরপর লড়াইয়ে ফেরে মুশফিক ও মোসাদ্দেকের কল্যাণে। মুশফিক থিতু হতে সময় নেননি। মোসাদ্দেক শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে থাকলেও পরে তোলেন ঝড়।
শেষ ৬ ওভারে ৫৫ রান প্রয়োজন দাঁড়ায় আবাহনীর। সমীকরণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মোসাদ্দেক হাত খোলেন। আরিফুল হকের করা ১৫তম ওভারে চার-ছয়ে তিনি নেন ১৭ রান। মাহমুদউল্লাহর পরের ওভারে আসে ১১ রান। ১৭তম ওভারেও ওঠে ১৭ রান। মুকিদুলকে ২টি চার ও ১টি ছয় মারেন মোসাদ্দেক।
হাতের মুঠোয় খেলা চলে আসার পর মুশফিক ও মোসাদ্দেক পৌঁছান ব্যক্তিগত মাইলফলকে। ১৮তম ওভারের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে সঞ্জিত সাহাকে ছক্কা মেরে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন মোসাদ্দেক। ম্যাচের শেষ বলে চার মেরে ফিফটি স্পর্শ করেন মুশফিক।