বিপিএলের ফর্ম কি বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়?

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রাথমিক দল চূড়ান্ত করে ফেলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সেই স্কোয়াড আইসিসির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং আজই তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে। তবে গুঞ্জন অনুযায়ী, এই প্রাথমিক দলে বড় কোনো চমক নেই বরং বিপিএলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কয়েকজন ক্রিকেটারের বাদ পড়াই আলোচনার কেন্দ্রে।

সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অফফর্মে থাকা জাকের আলীকে প্রাথমিক দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বিপিএলে ব্যাটে-বলে নজরকাড়া পারফরম্যান্স সত্ত্বেও টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং তরুণ পেসার রিপন মণ্ডলের নামও নেই সেই তালিকায়।

চলতি মৌসুমের বিপিএলে শান্ত এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে ২০৩ রান করে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। গড় ৬৭.৬৬, স্ট্রাইক রেট ১৪৭-এর ওপরে। এই বিপিএলের একমাত্র সেঞ্চুরিও তার, সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে ৬০ বলে অপরাজিত ১০১ রান। তবু এমন পারফরম্যান্সের পরও বিশ্বকাপের প্রাথমিক স্কোয়াডে জায়গা হয়নি তার।

বিসিবি সূত্র জানায়, শান্তকে দলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। তবে টি-টোয়েন্টি দলে তার স্বাভাবিক তিন নম্বর পজিশনটি অধিনায়ক লিটন দাসের জন্য নির্ধারিত। চার নম্বরে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে পারভেজ হোসেন ইমনকে, যিনি বিপিএলে রান তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন। ফলে শান্তের জন্য খোলা থাকছে কেবল ওপেনিংয়ের জায়গা।

কিন্তু ওপেনিং পজিশনেও আপাতত নির্ভরতা রাখা হয়েছে তানজিদ হাসান তামিম ও সহ-অধিনায়ক সাইফ হাসানের ওপর। যদিও বিপিএলে এখন পর্যন্ত শান্ত এই দুজনের চেয়ে অনেক এগিয়ে, তানজিদের চার ইনিংসে রান মাত্র ৬১, আর সাইফ খেলেছেন তিনটি এক অঙ্কের ইনিংস। তবু নির্বাচকরা সম্ভবত গত বছর জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে তাদের পারফরম্যান্সকেই বিপিএলের ফর্মের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

এক বিসিবি সূত্র আরও জানায়, দলে নাম লিখিয়ে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার ঝুঁকি নিতে চায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত স্কোয়াডে পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। যদি বিপিএলে ওপেনাররা ব্যর্থ হতে থাকেন এবং শান্ত ধারাবাহিকভাবে বড় রান করে যান, তাহলে শেষ মুহূর্তে তার দলে ফেরার ক্ষীণ সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে রাজশাহীর তরুণ পেসার রিপন মণ্ডলের ক্ষেত্রেও বিশ্বকাপটা যেন একটু আগেই চলে এসেছে। ২২ বছর বয়সী এই পেসার এখন পর্যন্ত খেলা দুই ম্যাচেই হয়েছেন ম্যাচসেরা। নোয়াখালীর বিপক্ষে ৪/১৩, আর রংপুরের বিপক্ষে মাত্র সাত রান রক্ষা করে ম্যাচ নিয়ে যান সুপার ওভারে, সেখানেও দেন মাত্র ছয় রান। তবু স্থির পেস আক্রমণের ওপর ভরসা রেখে তাকে 'চমক' হিসেবে দলে রাখেননি নির্বাচকরা।

গুঞ্জনভিত্তিক স্কোয়াডে ব্যাটিং গভীরতা নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। জাকের আলীর বাদ পড়ায় সাত নম্বরে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের দিকেই তাকিয়ে আছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বিশেষ করে কলকাতায়, যেখানে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চার ম্যাচের তিনটিই, ডেথ ওভারে তার বোলিংকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

মিডল অর্ডারে বিকল্প ব্যাটসম্যানের ঘাটতি থাকলেও নতুন মুখ যুক্ত করতে অনিচ্ছুক ম্যানেজমেন্ট। এক কর্মকর্তা বলেন, 'গত এক বছর ধরেই এই দলটাকে গড়ে তোলা হয়েছে। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে হঠাৎ নতুন কাউকে আনলে দলগত সমন্বয় সামলানো কঠিন হয়। অঙ্কন আর শান্ত ছাড়া বাস্তবিক অর্থে খুব বেশি বিকল্পও নেই।'

সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, বিপিএলের দুর্দান্ত ফর্ম কি বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়? নাকি অভিজ্ঞতা ও পূর্বপরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচকদের কাছে বড় হয়ে উঠছে?