জাতীয় স্টেডিয়াম নিয়ে ফুটবল ও আর্চারির মধ্যে টানাপোড়েন
আগামী ৮ থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় অনুষ্ঠেয় এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপ জাতীয় স্টেডিয়াম থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। কারণ, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের দুটি ম্যাচের জন্য ভেন্যুটি প্রয়োজন। আগামী ১৩ নভেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচ ও ১৮ নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ রয়েছে তাদের।
ভেন্যু স্থানান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। শনিবার জাতীয় স্টেডিয়ামে উপদেষ্টা ও কূটনীতিকদের মধ্যে একটি প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে ফুটবলকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, তাই আর্চারিকে অন্যত্র সরে যেতে হবে।
'আমরা আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপ আর্মি স্টেডিয়াম বা কমলাপুর স্টেডিয়ামে আয়োজন করার পরিকল্পনা করছি। কারণ ভারত ও গায়ানা (প্রকৃতপক্ষে আফগানিস্তান) দলের সঙ্গে আমাদের ফুটবল ম্যাচ রয়েছে। এখানে আর্চারির ইভেন্টটি অনুষ্ঠিত হলে ভালো হতো। কিন্তু এখন আমরা তা করতে পারছি না। কারণ, ফুটবলই আমাদের অগ্রাধিকার,' বলেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা।
এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে এশিয়া মহাদেশের প্রায় ৩০টি দেশ থেকে চারশর বেশি খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
যদিও ভেন্যু স্থানান্তর নিয়ে বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশন (বিএএফ) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফেডারেশনটির সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ সতর্ক করেছেন, ইভেন্টটি সরিয়ে অন্য কোথাও আয়োজন করলে বাংলাদেশের আর্চারি বিশ্ব দরবারে বড় ধরনের ইমেজ সংকটে পড়তে পারে।
'আমরা এখনও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি। এক বছর আগে আমাদেরকে মাঠ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কয়েক দিন আগে আমরা জানতে পারি যে, জাতীয় স্টেডিয়ামে একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু আমরা ইতোমধ্যে চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি,' তানভীর সাংবাদিকদের বলেছেন।
'টেকনিক্যাল প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে ভেন্যু পরিদর্শন করে গেছেন। এখানে ৩০ বা ৩১টি দেশ থেকে চারশর বেশি খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন। এটি আমাদের মর্যাদা ও ইমেজের বিষয়,' তিনি যোগ করেছেন।
বিএএফের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ব আর্চারি এশিয়ার (ডব্লিউএএ) সদস্য কাজী রাজিবউদ্দিন আহমেদ চপল সম্ভাব্য একটি সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে শাস্তি এড়ানো যায়।
'যদি আমরা সেমিফাইনাল পর্যন্ত জাতীয় স্টেডিয়ামে ইভেন্টটি আয়োজন করতে পারি এবং আগামী ১২ নভেম্বর বিকেল ৬টার মধ্যে সবকিছু গুটিয়ে কেবল ফাইনালগুলোর জন্য অন্য ভেন্যুতে সরে যাই, তাহলে আমরা বিশ্ব আর্চারির নির্দেশনার মধ্যে থাকব। অন্যথায়, আমাদেরকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে হবে,' তিনি বলেছেন।