আলোনসোর জাদু: ৬৪ বছরে সবচেয়ে ভালো শুরু রিয়ালের
গত জুনে রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্ব নিয়ে বিশ্বকাপজয়ী সাবেক স্প্যানিশ মিডফিল্ডার জাবি আলোনসো কাটাচ্ছেন দারুণ সময়। তার অধীনে চলমান ২০২৫-২৬ মৌসুমের শুরুটা ক্লাবটির জন্য এতই ভালো হয়েছে যে, গত ৬৪ বছরের মধ্যে এমন কিছু দেখা যায়নি।
গতকাল শনিবার রাতে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে লা লিগার ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় রিয়াল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এবারের মৌসুমে ১৪ ম্যাচে এটি তাদের ১৩তম জয়। এর মধ্যে লা লিগায় ১১ ম্যাচে ১০টি ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিন ম্যাচের সবকটিতে জয় পেয়েছে লস ব্লাঙ্কোরা।
রিয়াল হেরেছে কেবল নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে। গত সেপ্টেম্বরে লা লিগার ম্যাচে প্রতিপক্ষের ডেরায় ৫-২ গোলে পরাস্ত হয়েছিল তারা। এর আগে টানা সাতটি ও পরে টানা ছয়টি ম্যাচ জিতেছে দলটি।
কোনো মৌসুমের প্রথম ১৪ ম্যাচে এমন ভালো শুরু রিয়াল শেষবার পেয়েছিল ৬৪ বছর আগে। ১৯৬১-৬২ মৌসুমেও তারা ১৩টি জয়ের পাশাপাশি একটি ম্যাচ হেরেছিল। তখন কোচ ছিলেন কিংবদন্তি মিগেল মুনোজ। আর সেই স্কোয়াডে ছিলেন ফেরেঙ্ক পুসকাস ও আলফ্রেদো দি স্তেফানোর মতো ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলাররা।
১২৩ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হওয়া রিয়াল নিজেদের বর্ণাঢ্য ও সাফল্যমণ্ডিত ইতিহাসে এর চেয়ে ভালো শুরু পেয়েছিল কেবল একবার। কোচ হোসে আনহেল বেরায়োন্দোর অধীনে ১৯২৮-২৯ মৌসুমের প্রথম ১৪ ম্যাচের ১৩টিতে জয়ের সঙ্গে বাকিটি ড্র করেছিল তারা।
রিয়ালের দুর্দান্ত ছন্দের পেছনে মূল ভূমিকা বিশ্বকাপজয়ী ফরাসী ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপের। এই ১৪ ম্যাচের সবকটিতে খেলে তিনি করেছেন ১৮ গোল। এর মধ্যে লা লিগায় ১১ ম্যাচে ১৩ গোল করে এককভাবে শীর্ষে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিন ম্যাচে ৫ গোল করে বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইনের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন তিনি।
ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল এসেছে এমবাপের কাছ থেকে। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে জাল কাঁপানোর পর ৩১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।
প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক পেয়ে যেতে পারতেন এমবাপে। কিন্তু ৪৩তম মিনিটে আরেকটি পেনাল্টি পেলেও তিনি বল তুলে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের হাতে। তবে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ব্যর্থ হন স্পট-কিক থেকে লক্ষ্যভেদ করতে। বাকি দুই গোলদাতা হলেন জুড বেলিংহ্যাম ও আলভারো কারেরাস।