শ্রীলঙ্কার জয়ের পর বাতাস ভারী কিছু মুহূর্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক, আবুধাবি থেকে

খেলা শেষে মোহাম্মদ নবি কিট ব্যাগ টেনে বাসের দিকে এগুচ্ছিলেন। বাংলাদেশি কজন সাংবাদিক তাকে খবরটা দিলেন, 'ওয়ালালাগের বাবা আর নেই। ম্যাচের মধ্যেই তিনি হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন।' স্তম্ভিত হয়ে গেলেন আফগান অলরাউন্ডার। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন সমবেদনা।

নবির কথা বিশেষভাবে আসছে, কারণ এই ম্যাচের মধ্যে ওয়েলালাগে জন্য ভীষণ তিক্ত কিছু সময় উপহার দিয়েছেন নবি। ইনিংসের শেষ ওভার করতে আসা বাঁহাতি স্পিনার হয়ে যান কেমন যেন এলোমেলো, অভিজ্ঞ নবি মেরে দেন ৫ ছক্কা। এর আগে নবির সহজ ক্যাচও ফেলে দিয়েছিলেন ওয়েলালাগে।

কে জানত ম্যাচ শেষে পাবেন জীবনের সবচেয়ে খারাপ সংবাদ! দারুণ রান তাড়ায় আফগানিস্তানকে হারিয়ে মাঠ ছাড়ছিলেন লঙ্কানরা। প্রতিপক্ষের সঙ্গে সৌজন্যতা বিনিময়ে তখন মাঠে নামেন ওয়েলালাগেও। প্যাড পরা ছিলেন তিনি, আরেকটি উইকেট পড়লে ব্যাট করতেও নামার কথা ছিলো তার।

শ্রীলঙ্কার ম্যানেজারের কাছে খবরটা চলে আসার পর তিনি টেনে নিয়ে আসেন ওয়েলালাগেকে। কাঁধে হাত রেখে প্রথমে শক্ত হতে বলেন, অধিনায়ক চারিথা আসালাঙ্কা তখন পাশে। একজন মানুষকে তার বাবার মৃত্যুর সংবাদ দেওয়া হচ্ছে খেলার মাঠে, যেদিন কিনা পারফরম্যান্সের কারণেও ভীষণ অস্বস্তিতে তিনি।

শ্রীলঙ্কার কয়েকজন ক্রিকেটারের পরিবারের সদস্যরাও এসেছেন খেলা দেখতে। তাদের কাছে লঙ্কান সাংবাদিক বর্ণনা করছিলেন পুরো বিষয়। দারুণ জয়ের রাতেও কেমন একটা অন্যরকম আবহ তৈরি হয়ে যায় সবার ভেতর।

খবরটা আবেদন তৈরি করে টাইমিংয়ের কারণে। শ্রীলঙ্কার সিনিয়র সাংবাদিক রেক্স ক্লেমেন্তাইন দেশ থেকে নিশ্চিত হয়ে বলছিলেন ইনিংসের মাঝ বিরতির সময়েই নাকি ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা। তখন ওয়ালালেগের ওই ওভারের জন্য আফগানিস্তানের পাল্লাই মনে হচ্ছিলো ভারী। বাংলাদেশের সমর্থকরাও পড়ে গিয়েছিলেন দুশ্চিন্তায়।

সুরঙ্গা ওয়ালেগের বয়স স্রেফ ৫৪, নিজেও ক্রিকেট খেলতেন। তবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি যেতে পারেননি নানান কারণে। ছেলে দুনিথকে ক্রিকেটার বানানোর মূল কারিগর কিন্তু বাবা সুরঙ্গা। ২২ পেরুনো দুনিথের মনের ঘরে কী চলছে আঁচ করা যায়, তবে পুরোপুরি অনুধাবন করা কঠিন।  এমন দুঃসহ সময় পরিস্থিতিতে না পড়লে কেউ এসব অনুধাবন করতে পারে না।

দুবাইতে বসে শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান ম্যাচে নজর ছিল বাংলাদেশ দলের। খবরটা তাদের কাছেও চলে গেছে দ্রুত। অধিনায়ক লিটন দাস, তাসকিন আহমেদকে শোক জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন।

ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর হওয়ায় শ্রীলঙ্কা দল সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে কথা বলতে চায়নি। আগেই জানিয়ে দেওয়া হয় মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে বাড়তি কোন প্রশ্ন যেন কেউ না করেন।

ক্রিকেট মাঠে জীবনের গল্প মিশে মাঝে মধ্যে এমন কিছু হয়ে যায়, যা খেলার প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে গিয়ে স্পর্শ করে সবাইকে।