ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৫

বড় জয়ে গ্রুপ সেরা বেলজিয়াম, মিশরের সঙ্গে নাটকীয় ড্র করে অপেক্ষায় ইরান

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রথম দুই ম্যাচে পয়েন্ট খোয়ানোর ধাক্কা সামলে গা ঝাড়া দিয়ে উঠল বেলজিয়াম। গ্রুপের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দিল তারা। অন্য দিকে নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে ইরান-মিশর ড্র করায় গোল গড়ে পিছিয়ে দ্বিতীয় হলো মিশর। আলোচিত দল ইরান প্রতি ম্যাচেই একটি করে পয়েন্ট পেয়ে সেরা তৃতীয় হওয়ার বিবেচনায় থাকল অপেক্ষায়।

ভ্যানকুভারে বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে গুঁড়িয়ে দেয় বেলজিয়াম। গোল পান লিন্দ্রো ট্রেসার্ড, কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলো লুকাকু ও আলেক্সিস সায়েলেমায়েকার্স। নিউজিল্যান্ডের হয়ে গোল করেন এলিজাহ জাস্ট।

এই জয়ে তিন ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হলো ইউরোপের দল। ইরানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা মিশরের পয়েন্টও পাঁচ। তবে গোল গড়ে পিছিয়ে দ্বিতীয় তারা।

সিয়াটলে একই সময়ে গ্রুপের অন্য ম্যাচে হয় তুমুল লড়াই, অন্তিম সময়েও চলে নাটকীয়তা। শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর পেনাল্টি মিস করা ইরান পরে সমতায় ফেরে।  ১-১ গোলে সমতায় থাকা ম্যাচ চলছিল শেষের দিকে। যোগ করা সময়ে দারুণ গোল করে শোজা খলিলজাদেহ মাতেন উল্লাসে। নকআউটে ওঠার আনন্দে তখন মাতোয়ারা ইরান। কিন্তু খানিক পর ভিএআর পরীক্ষা করার পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। শেষ রূপান্তর বা শেষ মুহূর্তেও ইরানের আরেকটি শট বারে লেগে ফিরে এলে খানিক আগের হাসি মিলিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে দলটি। তৃতীয় সেরা দলগুলোর একটি হয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ এখনো আছে এশিয়ার দলটির। সেজন্য আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ইরান-মিশর 

ম্যাচ শুরুর আগেই শেষ ৩২-এর যোগ্যতা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলো মিশরের। উজ্জীবিত মোহামেদ সালাহর দল নেমে প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যেই মাহমুদ সাবেরের মাধ্যমে লিড নেয়। খানিক পর ম্যাচে ফিরতে পেনাল্টি পায় ইরান। তা থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ইরান অধিনায়ক মেহেদী তারেমি, তার শট ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক। 

অবশ্য সমতায় ফিরতে দেরি হয়নি। ১৪তম মিনিটে রামিন রেজাইয়ান কঠিন কোণ থেকে গোল করে সমতা ফেরান দলকে। 

আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে চলতে থাকা ম্যাচে ৯৩ মিনিটে খলিলজাদেহ নাটকীয় গোল করেছিলেন। দুরন্ত উদযাপনের পর ভিএআর পরীক্ষায় দেখা যায় অল্পের জন্য অফসাইডে পড়েছেন গোলদাতা।

মিশর-বেলজিয়াম 

বেলজিয়ানরা শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে। প্রথমার্ধে বল দখলের লড়াইয়ে অনেক এগিয়ে থেকে তারাই একমাত্র দল হিসেবে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

২৮তম মিনিটে বেলজিয়ামের আক্রমণের ফল মেলে, ট্রোসার্ড পেনাল্টি বক্সের ভেতর থেকে কেভিন ডি ব্রুইনের ক্রস দারুণভাবে জালে জড়িয়ে ডেডলক ভাঙেন।

৩১ বছর বয়সী ট্রোসার্ড ৫০তম মিনিটে বেলজিয়ামের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এবারও ডি ব্রুইনের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ায় একটি থ্রু বল ধরে, বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কাছ থেকে ভলিতে গোল করেন তিনি।

৫৪তম মিনিটে এলিজাহ জাস্টের একটি আক্রমণ নিউজিল্যান্ডকে আশাবাদী করে তুলেছিল, তবে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের প্রথম অন-টার্গেট শটটি রুখে দেন।

এর কিছুক্ষণ পরই ডি ব্রুইন তৃতীয় গোলটি করেন। ট্রোসার্ডের পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের প্রান্ত থেকে বাঁ পায়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচু শটে জালে পাঠান তিনি। ৩৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের হয়ে গোল করা সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হলেন।

৮৪তম মিনিটে জাস্টের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ড একটি গোল শোধ করে, কিন্তু বদলি খেলোয়াড় লুকাকু একটি শক্তিশালী হেডারে বেলজিয়ামের তিন গোলের ব্যবধান পুনরুদ্ধার করেন। এর পর যোগ করা সময়ে আরেক বদলি খেলোয়াড় অ্যালেক্সিস সেলেমেকার্স পঞ্চম গোলটি করলে নিউজিল্যান্ডের জন্য ম্যাচটি চরম হতাশাজনক হয়ে ওঠে।