টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতে ইতিহাস এমবাপের

স্পোর্টস ডেস্ক

ফ্রান্স বিশ্বকাপ শেষ করেছে হতাশা নিয়ে। সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙেছে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছে। তবে দল ব্যর্থ হলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আলো ছড়িয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। ২০২৬ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতে গড়েছেন নতুন ইতিহাস।

২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জিতে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। টানা দুই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতা প্রথম ফুটবলার এখন ফ্রান্সের এই ফরোয়ার্ড।

পুরো টুর্নামেন্টে আট ম্যাচে ১০ গোল করেছেন এমবাপে। ফলে আট গোল করা আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি।

চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপেও আট গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এমবাপে। এবার আরও ১০ গোল যোগ করে টানা দ্বিতীয়বার এই সম্মান নিজের করে নিলেন ২৭ বছর বয়সী তারকা।

এবারের বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা দাঁড় করান ২২-এ। এর মাধ্যমে পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন এমবাপ্পে। তার ঠিক পেছনেই আছেন ২১ গোল করা লিওনেল মেসি।

এছাড়া ১৯৭০ সালে পশ্চিম জার্মানির কিংবদন্তি গার্ড মুলারের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে এক আসরে ১০ গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেন এমবাপে।

একটি বিশ্বকাপে এমবাপের চেয়ে বেশি গোল করতে পেরেছেন মাত্র দুজন। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জুস্ত ফন্তেইন করেছিলেন ১৩ গোল, আর ১৯৫৪ বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির সান্দর ককসিস করেছিলেন ১১ গোল।

২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে সেনেগাল ও ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন এমবাপে। শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয়সূচক পেনাল্টি থেকে গোল করেন, কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষেও নাম লেখান স্কোরশিটে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আরও দুটি গোল করে ১০ গোলে পৌঁছে যান তিনি।

অন্যদিকে, ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করলে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল মেসির। কিন্তু নিউ জার্সির ফাইনালে গোলের দেখা পাননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ফলে আট গোল নিয়েই টুর্নামেন্ট শেষ করেন তিনি।

গোলদাতাদের তালিকায় এরপর রয়েছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম ও নরওয়ের আর্লিং হালান্ড, দুজনেরই গোল সাতটি। ছয় গোল করে তালিকার পরের দুই স্থানে আছেন ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে এবং ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন।