নারী বিশ্বকাপ ফাইনাল

শেফালি-দীপ্তির ফিফটিতে ভারতের ২৯৮ রানের বড় পুঁজি

স্পোর্টস ডেস্ক

শেফালি বর্মা ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে ফিরলেন সেঞ্চুরির সুবাস জাগিয়ে। তার সঙ্গে স্মৃতি মান্ধানার শতরানের উদ্বোধনী জুটিতে মিলল শক্ত ভিত। তা কাজে লাগিয়ে ফিফটি পেলেন দীপ্তি শর্মাও। শেষদিকে রিচা ঘোষ পরিস্থিতির দাবি মেটাতে করলেন ঝড়ো ব্যাটিং। সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টস হেরে আগে ব্যাট করে বড় পুঁজি পেল ভারত।

রোববার নাবি মুম্বাইতে আইসিসি নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নেমেছে দল দুটি। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা পর শুরু হয়েছে খেলা। পুরো ৫০ ওভার টিকে ৭ উইকেটে ২৯৮ রান তুলেছে ভারত। তবে আশা জাগিয়েও তিনশ রান স্কোরবোর্ডে জমা করতে না পারায় কিছুটা আফসোস থাকতে পারে তাদের।

নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে এটি কোনো দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। রেকর্ডটি অস্ট্রেলিয়ার দখলে। ক্রাইস্টচার্চে সবশেষ ২০২২ সালের আসরের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ৩৫৬ রান তুলে ৭১ রানে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।

ভারতের মতো প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনেও। তবে স্বপ্ন পূরণ করতে হলে তাদেরকে গড়তে হবে রেকর্ড। নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে এত রান তাড়া করে জেতার নজির নেই কোনো দলের। ২০০৯ সালে সিডনিতে নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৬৭ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরা ইংল্যান্ডের কীর্তি টিকে আছে এখনও।

শুধু তাই নয়, নারী ওয়ানডের ইতিহাসেই কখনও এত বেশি রান তাড়ায় সফল হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। সর্বোচ্চ ২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছে তারা। ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত গত বিশ্বকাপের ওই ম্যাচটি থেকে অবশ্য অনুপ্রেরণা খুঁজে নিতে পারে দলটি। কারণ, তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ভারতই।

প্রতীকা রাওয়াল চোটে পড়ায় সেমিফাইনালের আগে ভারতের স্কোয়াডে ঢোকেন শেফালি। বিশ্বকাপে যার খেলার কথা ছিল না, ফাইনালে সেই তিনিই পথ দেখান দলকে। ৭৮ বলে সাতটি চার ও দুটি ছক্কায় খেলেন ৮৭ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস। আরেক ওপেনার স্মৃতি ফিফটি পাননি অল্পের জন্য। ৫৮ বলে ৪৫ রান আসে তার ব্যাট থেকে। তিনি বিদায় নিলে ভাঙে ১০৬ বলে ১০৪ রানের জুটি।

ব্যক্তিগত ৫৬ রানে একবার জীবন পান শেফালি। ডিপ মিডউইকেটে তার সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেন আন্নেকে বশ। এরপর সেঞ্চুরির দিকেই ছুটছিলেন তিনি। তবে পরেরবার ক্যাচ তুলে আর বাঁচতে পারেননি। ধরা পড়েন সুনে লুসের হাতে। শেফালিকে আউট করে নিজের পরের ওভারে জেমিমা রদ্রিগেজকেও থামান আয়াবোঙ্গা খাকা। সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ে বীরত্ব দেখিয়ে অপরাজিত সেঞ্চুরি হাঁকানো জেমিমা করেন ৩৭ বলে ২৪ রান।

অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌর (২৯ বলে ২০ রান) ও আমানজোত কৌর (১৪ বলে ১২ রান) সুবিধা করতে না পারলেও দীপ্তি খেলতে থাকেন আস্থার সঙ্গে। আর রিচা ক্রিজে গিয়েই মারতে শুরু করেন। ষষ্ঠ উইকেটে তাদের জুটিতে আসে ৩৫ বলে ৪৭ রান।

রিচা ২৪ বলে তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় করেন ৩৪ রান। ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়া দীপ্তির ব্যাট থেকে আসে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ৫৮ বলে ৫৮ রান। রাধা যাদব অপরাজিত থাকেন ৩ বলে ৩ রানে। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে খাকা ৩ উইকেট নেন ৫৮ রান খরচায়।