জুনাইদ-আর্যাংশ-সোহাইবের নৈপুণ্যে আরব আমিরাতের রোমাঞ্চকর জয়

স্পোর্টস ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের 'ডি' গ্রুপের ম্যাচে দিল্লিতে কানাডাকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। জুনাইদ সিদ্দিকির দারুণ বোলিংয়ের পর আর্যাংশ শর্মা ও সোহাইব খানের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে নাটকীয়ভাবে জিতেছে তারা। বাজে শুরু সত্ত্বেও ঘুরে দাঁড়িয়ে ১৫১ রানের লক্ষ্য ২ বল বাকি থাকতে টপকে গেছে মধ্যপ্রাচ্যের দলটি।

শুক্রবার অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নামা কানাডাকে শুরুতেই চেপে ধরেন ম্যাচসেরা হওয়া পেসার জুনাইদ। শেষদিকে আক্রমণে ফিরে আবার তোপ দাগেন তিনি। নিজের ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটাই তার প্রথম ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি। এমন পারফরম্যান্স কানাডাকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি।

মাঝারি মানের পুঁজিতে বড় অবদান রাখেন হর্ষ ঠাকের। ৩৮ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর নবনীত ঢালিওয়ালের সঙ্গে ৪৭ বলে ৫৮ রানের জুটি গড়েন তিনি। দুটি চার ও তিনটি ছক্কায় খেলেন ৪১ বলে ৫০ রানের ইনিংস। নবনীতর ব্যাট থেকে আসে ২৮ বলে ৩৪ রান। শেষমেশ পুরো ওভার খেলে ৭ উইকেটে ১৫০ রান তোলে কানাডা।

জবাব দিতে নেমে এক পর্যায়ে চরম বিপাকে পড়ে আরব আমিরাত। ১৩তম ওভারে মাত্র ৬৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে দলটি। তখন হাল ধরেন ওপেনার আর্যাংশ ও ছয়ে নামা সোহাইব। জয়ের জন্য শেষ ৪ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৫৬ রানের কঠিন সমীকরণ মেলানোর। সেখান থেকেই দুজনের অবিশ্বাস্য লড়াই শুরু হয়। পঞ্চম উইকেটে তারা মাত্র ৪৩ বলে ৮৪ রানের ম্যাচজয়ী জুটি গড়েন।

৪১ বলে ফিফটি ছোঁয়া আর্যাংশ এক প্রান্ত আগলে রেখে অপরাজিত ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন। তিনি ৫৩ বল মোকাবিলায় ছয়টি চার ও তিনটি ছক্কা মারেন। অন্যদিকে, সোহাইব মাত্র ২৯ বলে ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে সমীকরণ সহজ করে দেন। তার ব্যাট থেকে আসে সমান চারটি করে চার ও ছক্কা।

সোহাইবের বাউন্ডারির ফুলঝুরি মূলত কানাডার বোলারদের লাইন ও লেংথ এলোমেলো করে দেয়। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৮ রান। আর্যাংশ প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ একেবারে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন। এক বল পর সোহাইব সাজঘরে ফিরলেও পরের বলেই রোমাঞ্চকর এক জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আরব আমিরাত।

'ডি' গ্রুপে দুই ম্যাচ খেলে আরব আমিরাতের এটি প্রথম জয়। তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা দলটি সব মিলিয়ে এই টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় জয়ের দেখা পেয়েছে।