প্রোটিয়াদের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ভারতের সেমিফাইনালের সমীকরণ কী?
আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হেরে যাওয়ায় ভারতের সেমিফাইনালে ওঠার পথ কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে কেবল ভারতীয়দের টানা ১২ জয়ের রেকর্ডই ভাঙেনি, বরং তাদের নেট রান রেটেও (-৩.৮০০) বাজেভাবে আঘাত লেগেছে। সুপার এইট পর্বে দলগুলোর পয়েন্ট সমান হয়ে গেলে এই রান রেটই শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে।
গতকাল রোববার গ্রুপ ওয়ানের ম্যাচে গত আসরের দুই ফাইনালিস্টের লড়াইয়ে পাত্তাই পায়নি শিরোপাধারীরা। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেটে ১৮৭ রান স্কোরবোর্ডে জমা করার পর ভারতকে ৭ বল বাকি থাকতে ১১১ রানে অলআউট করে দেয় প্রোটিয়ারা।
সেমিফাইনালে যেতে ভারতকে যা করতে হবে:
১. সুপার এইটের বাকি দুই ম্যাচেই জয় (সবচেয়ে নিরাপদ পথ)
ভারতকে তাদের পরবর্তী দুটি ম্যাচেই জিততে হবে— চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
যদি ভারত দুটি ম্যাচই জেতে, তবে সুপার এইটে তাদের পয়েন্ট হবে ৪। সাধারণত ৪ পয়েন্ট সেমিফাইনালের টিকিটের জন্য যথেষ্ট হয়, যদি না আরও দুটি দলও ৪ পয়েন্ট করে পেয়ে যায়। তেমনটি হলে ফয়সালা হবে রান রেটে। তাই ভারতকে কেবল জিতলেই হবে না, বরং বড় ব্যবধানে জিতে রান রেটও বাড়িয়ে নিতে হবে।
২. একটি ম্যাচে জয় (ঝুঁকিপূর্ণ পথ)
ভারত যদি বাকি দুই ম্যাচের মধ্যে একটিতে জেতে, তবে তাদের ভাগ্য পুরোপুরি নির্ভর করবে অন্য দলের ওপর। দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের বাকি সব ম্যাচে জিততে হবে এবং জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কেবল একটি করে ম্যাচের বেশি জেতা যাবে না।
সেক্ষেত্রে প্রোটিয়ারা বাদে বাকি তিন দলের পয়েন্ট হবে সমান ২। তখন তাদের মধ্যে রান রেটের তুলনা করা হবে। কিন্তু বর্তমানে সূর্যকুমার যাদব-জসপ্রিত বুমরাহদের যে বাজে রান রেট, তা তাদের জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে। শুধু তাই নয়। বৃষ্টিতে কোনো ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।
ভারতের সামনে সমীকরণ তাই এখন একদম পরিষ্কার— প্রথমত, বাকি দুটি ম্যাচই জিততে হবে; দ্বিতীয়ত, রান রেট ভালো করতে বড় ব্যবধানে জিততে হবে এবং তৃতীয়ত, অন্য দলগুলোর ফলাফলের ওপর নির্ভর করা চলবে না।