নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশীদের গণঅনশন, ৩ মাসেও মেলেনি আশ্বাস
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধনধারীদের প্যানেলভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে প্রায় তিন মাস ধরে গণঅনশন করলেও এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস মেলেনি।
'প্যানেল প্রত্যাশী নিবন্ধিত শিক্ষক সংগঠন' এর ব্যানারে গত ৫ জুন থেকে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের পাশে সকাল-সন্ধ্যা অবস্থান করে অনশন করছেন পাশ করা চাকরিপ্রত্যাশীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
একক আবেদনে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধনধারীদের কোটাবিহীন প্যানেলভিত্তিক নিয়োগ দেওয়াসহ তিন দফা দাবি তাদের।
বাকি দুইটি দফা দাবি হলো- সকল নিবন্ধনধারীদের স্ব স্ব নীতিমালায় নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত নিবন্ধন পরীক্ষা স্থগিত রাখা এবং ইনডেক্সধারীদের (যারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত) প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত না করে আলাদা বদলির ব্যবস্থা করা।
প্রায় তিন মাস ধরে রাজধানীতে বিভিন্ন মেস, মসজিদ, রেলস্টেশনে রাত কাটিয়ে মানবেতর সময় পার করছেন বলে দাবি করেন অনশনে অংশ নেওয়া চাকরিপ্রত্যাশীরা।
এর মধ্যে গত ৮ আগস্ট বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেও কোনো আশ্বাস পাননি তারা।
তারা জানান, আইনি প্রক্রিয়ার বাধার জন্য এখন নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান। আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতেও ব্যর্থ হন তারা।
নিবন্ধনধারীদের একজন মুখপাত্র মাইনুদ্দিন মুনশী জানান, এনটিআরসি চেয়ারম্যান আইনি বাধার কথা বললেও ২০০৬ সালে প্রকাশিত গেজেট এবং ২০১৫ সালে প্রকাশিত নতুন গেজেট অনুযায়ীও নিবন্ধন পাশকারীদের প্যানেলভিত্তিক নিয়োগ দিতে কোনো আইনি বাধা নেই।
এ বিষয়ে কথা বলতে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান এনামুল কাদের খানকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি।
এনটিআরসির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০০৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১৬টি নিবন্ধন পরীক্ষা ও একটি বিশেষ পরীক্ষায় মোট ৬ লাখ ৫২ হাজার ৬৭৭ জন নিবন্ধন পরীক্ষা পাশ করেছেন।
তবে, এর মধ্যে একেক জন নিবন্ধনধারী বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষা দিয়ে পাঁচ থেকে সাতটি পর্যন্ত পরীক্ষায় পাশ করেছেন। সনদের হিসেব ছাড়া, নিবন্ধনধারীদের ব্যক্তি অনুযায়ী সংখ্যা জানা যায়নি। তবে, এনটিআরসিএ চাইলেই জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী প্রকৃত সংখ্যা বের করতে পারে বলে জানিয়েছেন নিবন্ধনধারীরা।
এ পর্যন্ত তিনটি গণবিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে তিন দফায় শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে এনটিআরসিএ। এতে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে প্রায় ৩৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ পান। সর্বশেষ, এবছর ফেব্রুয়ারিতে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সারাদেশে ৫৪ হাজার শিক্ষক নেওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া, আর ২২ হাজার ইনডেক্সধারীদের (যারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত ছিলেন) কাগজে কলমে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অনশনকারীদের দাবি, তিন দফায় নিয়োগের পরও ৪০ হাজারের বেশি চাকরিপ্রত্যাশী এখনও নিয়োগ পাননি।
২০০৫ সাল থেকে বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য নিবন্ধন পরীক্ষার আয়োজন করে এনটিআরসিএ। এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা আয়োজন করলেও নিয়োগ চূড়ান্ত করত সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ। কিন্তু অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সাল থেকে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্ত করার দায়িত্ব পায় এনটিআরসিএ।
নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এনটিআরসিএতে শিক্ষক চাহিদা পাঠানোর পর নির্বাচিত বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের তালিকা পাঠানো হবে প্রতিষ্ঠানে। সে তালিকা থেকেই শিক্ষক নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানগুলো।