ধাপে ধাপে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি বেসরকারি কলেজশিক্ষকদের

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে ‘বৈষম্য’ দূর করতে ধাপে ধাপে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি কলেজশিক্ষক ও অধ্যক্ষদের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি সংগঠন।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় বাংলাদেশ কলেজ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিটিএ) ও বাংলাদেশ প্রিন্সিপালস কাউন্সিল (বিপিসি)।

পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘আধা-সরকারি’ ঘোষণা এবং সমান বেতন, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা ও পেনশন সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠন দুটি বলেছে, বিচ্ছিন্নভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করলে বিদ্যমান বৈষম্য দূর হবে না। তাই পুরো শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণে সরকারকে পরিকল্পিত ও ধাপে ধাপে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছে তারা।

তারা উল্লেখ করেন, সরকার ইতোমধ্যে জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের শতভাগ এবং অন্যান্য কিছু ভাতা দিয়ে থাকে। তাই এ খাতকে আধা-সরকারি মর্যাদা দেওয়া উচিত বলে যুক্তি তুলে ধরেছে সংগঠন দুটি।

ভবিষ্যতে প্রণীত যেকোনো জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুযোগ, উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য উচ্চতর বেতন স্কেল এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য বদলি ব্যবস্থা চালু করা।

এ ছাড়া, যোগ্য ও অভিজ্ঞ বেসরকারি শিক্ষকদের লিয়েন বা প্রেষণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডসহ শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক শিক্ষা সার্ভিস কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি এবং স্থানীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগের প্রচলিত পদ্ধতির বিরোধিতা করেছে। শিক্ষার মান বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে নিয়মিত একাডেমিক পরিদর্শনেরও আহ্বান জানিয়েছে তারা।

রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনুসৃত ব্যবস্থাপনা নীতিমালার মতো নিয়ম চালুর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, সরকারি কলেজের অনুরূপ জনবল কাঠামো চালু, অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করা এবং শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন পাওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্তির আওতায় আনা।

জরিপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত হওয়ার পরই নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুমতি দেওয়া এবং শিক্ষকদের মর্যাদা-সংক্রান্ত ১৯৬৬ সালের ইউনেস্কো-আইএলও সুপারিশ বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিসিটিএ সভাপতি মো. ইসহাক হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এলিম মোহাম্মদ নজমুল হোসেন এবং বিপিসি সভাপতি মোহাম্মদ মজহারুল হান্নানসহ অন্যরা।