গবেষণায় উৎসাহে শিক্ষার্থীদের ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ফেলোশিপ দেবে বুয়েট
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে প্রথমবারের মতো গবেষণার কাজে মনোযোগ বাড়াতে ৫০ শিক্ষার্থীকে ফেলোশিপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহ দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়৷
বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা (ডিএসডব্লিউ) মিজানুর রহমান আজ দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, এ ফেলোশিপ থেকে মাস্টার্সের ৩০ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা পাবেন৷ সর্বোচ্চ ১৮ মাস পর্যন্ত তারা এ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
পিএইচডির ২০ জন শিক্ষার্থী এ ফেলোশিপ পাবেন৷ তাদের প্রত্যেককে মাসে ৪৫ হাজার টাকা করে ৩৬ মাস পর্যন্ত দেওয়া হবে৷
এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়টির ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে৷ এ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
অধ্যাপক মিজানুর রহমান আরও বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকরা সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে পরামর্শক হিসেবে কাজ করে যে আর্থিক সম্মানী পান, সেখান থেকে ১৫ শতাংশ অর্থ এ ফেলোশিপের জন্য বরাদ্দ থাকবে৷'
বিশ্বে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বুয়েটের অবস্থান এগিয়ে নিতে কর্তৃপক্ষ গবেষণার প্রতি জোর দিচ্ছে বলেও জানান তিনি৷
প্রাথমিকভাবে, ৫০জন শিক্ষার্থীকে এ ফেলোশিপ দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানা গেছে৷
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও গবেষণায় আরও বেশি মনোনিবেশ করতে ইতোমধ্যে 'অন ক্যাম্পাস জব' চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ৷
ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন, ডেটা অ্যানালাইসিস, প্রোগ্রামিং,সফটওয়ার তৈরি এবং লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করে তাদের বেতন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বুয়েট৷
এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরাও৷ অনার্স শেষ বর্ষের কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের শিক্ষার্থী অনিরুদ্ধ গাঙ্গুলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গবেষণাকে পড়াশোনার পাশাপাশি যদি খণ্ডকালীন চাকরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে একজন শিক্ষার্থী শেখার পাশাপাশি কিছু অর্থও আয় করতে পারে, যা গবেষণার কাজকে আরও বেশি ত্বরান্বিত করবে৷ বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ ধরনের পদ্ধতির প্রয়োগ আছে৷ প্রশাসনের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ভালো হবে৷'