সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চায়ের আড্ডায় পড়তে পারবেন বই

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেইটে  যারা চায়ের আড্ডা দিতে আসেন, তারা এখন পড়তে পারবেন বইও।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেইটে একটি উন্মুক্ত লাইব্রেরি তৈরি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর হাসান সৈকত।

লাইব্রেরিটি আগামীকাল রোববার উদ্বোধন করা হবে।

যে জায়গাটিতে লাইব্রেরি করা হয়েছে সেখানে আগে ছিল খাবারের দোকান। কয়েকদিন আগে দোকান তুলে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সৈকত গড়ে তুলেছেন লাইব্রেরি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অনেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘুরতে আসেন। এতদিন সেখানে হতো চায়ের আড্ডা। এখন বই পড়তে পারবেন বইপ্রেমীরাও।

জায়গাটির সৌন্দর্য বাড়াতে লাইব্রেরির আশেপাশে সাজানো হয়েছে রং তুলি দিয়ে।

জানতে চাইলে লাইব্রেরির উদ্যোক্তা তানভীর হাসান সৈকত দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমাদের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি চিন্তা, চেতনা, মনন তথা সামাজিক উন্নয়নের সমান অগ্রগতির প্রয়োজন আছে। চিন্তার বিকাশের বড় হাতিয়ার হলো বই। উন্নত বিশ্বে রাস্তার ধারে কিংবা পার্কের সবুজ ছায়ায় বই পড়ার প্রচলন দীর্ঘকাল থাকলেও দুঃখজনকভাবে আমাদের দেশে নেই।'

আগামীকাল এটির উদ্বোধন হবে। তখন বই দিয়ে সাজানো থাকবে লাইব্রেরিটি।

একদিন প্রত্যেকটি জেলায় লাইব্রেরি বানানোর স্বপ্ন আছে জানান সৈকত। এখন কেবল একটির মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্নের যাত্রা শুরু বলেন তিনি।

করোনা শুরুর দিনগুলোতে টিএসসিতে খাবার রান্না করে ছিন্নমূল, ভাসমান মানুষকে টানা ১২১ দিন খাইয়ে ছিলেন সৈকত। এ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘ তাকে 'রিয়েল লাইফ হিরো' হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

সৈকত ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে সামাজিককাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সদস্য ছিলেন এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় উপসমাজ সেবা সম্পাদক।