ঢাবি শিক্ষার্থী জুয়েলকে বাঁচাতে প্রয়োজন ৫০ লাখ টাকা

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২৪তম ব্যাচের (২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী মো. কাজী জুয়েল যকৃতের ক্যান্সারে আক্রান্ত৷ এই মাসের মধ্যে যকৃত প্রতিস্থাপন করা না গেলে তার জীবনশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা৷ এ অবস্থায় যকৃত প্রতিস্থাপন করে তাকে বাঁচাতে ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা প্রয়োজন৷

মো. কাজী জুয়েল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক ছাত্র৷ তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে৷ জুয়েলের বাবা একজন স্বল্প বেতনের আনসার সদস্য৷

দীর্ঘদিন ধরেই যকৃতের ক‍্যানসারে ভুগছেন কাজী জুয়েল৷ প্রায় দুই বছর ধরে চেন্নাই ড. রেলা ইনস্টিটিউট অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টারে (চিকিৎসক মোহাম্মদ রেলার অধীনে) তিনি চিকিৎসাধীন আছেন৷ ২০১৯ সালে সার্জারি করে জুয়েলের যকৃতের ৪০ শতাংশ কেটে ফেলা হয়েছিল৷ এই চিকিৎসায় প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষক, জুয়েলের সহপাঠী , আত্মীয়-স্বজনসহ অনেকেই এক্ষেত্রে তাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন৷

কিন্তু এরপর জুয়েলের যকৃতের অবস্থার আরও অবনতি হয়৷ গত ২৬ জানুয়ারি তার যকৃতে নতুন টিউমার শনাক্ত হয়৷ এরপর চিকিৎসকেরা তার যকৃত প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন৷ এও বলা হয়েছে, ২ মাসের মধ্যে (ফেব্রুয়ারি ও মার্চ) যকৃত প্রতিস্থাপন করা না গেলে তার জীবনশঙ্কার সম্ভাবনা রয়েছে৷ এমন পরিস্থিতিতে যকৃত প্রতিস্থাপন অন্য কোনো উপায় না পেয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত জুয়েলের ছোট বোন তাকে অর্ধেক যকৃত দান করতে সম্মত হয়েছেন৷ এখন যকৃত প্রতিস্থাপনে ৪৫-৫০ লাখ টাকা প্রয়োজন৷ কিন্তু জুয়েলের পরিবারের পক্ষে এই টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়৷

কাজী জুয়েল বলেন, 'ছাত্রজীবনেই আমাকে এতটা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে হবে, তা আমি কখনো ভাবতেও পারিনি৷ আমি আগেও একবার ক্যানসারকে জয় করে নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলাম, জীবনটাকে নতুন করে সাজাতে শুরু করেছিলাম৷ কিন্তু সেই স্বপ্নময় যাত্রায় যেন ছেদ পড়েছে নির্মমভাবে৷ আমাদের নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে ৪৫-৫০ লাখ টাকা জোগাড় করা এখন অসম্ভব৷ তাই এই মুহূর্তে সবার সদয় সহানুভূতি ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন৷ সবার সহৃদয় সহযোগিতা চাই৷'