নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিংয়ের শিকার শিক্ষার্থী হাসপাতালে, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ময়মনসিংহ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে র‌্যাগিংয়ের নামে সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা।

নির্যাতনের শিকার সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থী সাগর চন্দ্র দে ময়মনসিংহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে অগ্নিবীণা হলে সাগরকে তার রুমমেট সৌমিক জাহান ডেকে নিয়ে রিভলভিং চেয়ারে বসতে বলে। এসময় দ্রুত গতিতে চেয়ারটি ঘোরানো শুরু করে। বারবার বলার পরও চেয়ারটি থামায়নি। এক পর্যায়ে চেয়ারটি নিয়ে নিচে পড়ে যায় সাগর। এতে মাথা, মুখে আঘাত পান তিনি, তার দুটি দাঁতও পড়ে যায়। এসময় চার রুমমেট সেখানে ছিলেন।  

সাগরের বাড়ি নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলায়।

সাগরকে প্রথমে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়।  

এ ঘটনায় আজ রোববার নির্যাতনকারীদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রোববার সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ ভবনের মূল ফটক আটকে অবস্থান করেন সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করে আন্দোলনকারীরা এবং মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়।  দুপুর ২টার দিকে  প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দিলেও কলা অনুষদ ভবনের মূল ফটক এখনো তালাবদ্ধ আছে।

আন্দোলনকারীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের ওপর যারা নির্যাতন করে তারা সন্ত্রাসী। বারবার আমাদের প্রশাসন তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে আসছে। আমাদের দাবি, এবার যেন কোনো ছাড় দেওয়া না হয়। আমরা নির্যাতনকারীদের স্থায়ী বহিষ্কার চাই।

আন্দোলন চলাকালে সেখানে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক তপন কুমার সরকার, অগ্নিবীণা হলের  প্রভোস্ট কল্যাণাংশু নাহা, সহকারী প্রক্টর ইরফান আজিজ, আসাদুজ্জামান নিউটন ও চন্দম কুমার পাল।

ছাত্র উপদেষ্টা তপন কুমার সরকার বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করছি এবং এ ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি। হল প্রশাসন ইতোমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, কমিটি আগামীকাল প্রতিবেদন জমা দেবে।

অগ্নিবীণা হল প্রভোস্ট বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীর সিটিস্ক্যান ও এক্সরে রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকরা আশঙ্কামুক্ত বলে নিশ্চিত করেছেন। আমরা সার্বক্ষণিক তার খোঁজখবর রাখছি এবং বিষয়টি সমাধানে অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অভিযোগ নিয়ে চারুকলার প্রথম বর্ষ (পুরাতন) সৌমিক জাহানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কল ধরেননি তিনি।