কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৪ জন আজীবন বহিষ্কার

আরও ৪০ জনের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি
নিজস্ব সংবাদদাতা, খুলনা

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানসহ ৪ জনকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ছাড়া আরও ৪০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

আজ বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কাজী সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন কুয়েটের জনসংযোগ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম সোহাগ।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুসারে আজীবন বহিষ্কার হওয়া ৪ শিক্ষার্থী হলেন- সাদমান নাহিয়ান সেজান (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং), হাসান আবদুল কাইয়ূম (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) ও রিয়াজ খান নিলয় (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং)।

এ ছাড়া ৭ শিক্ষার্থীকে ২ বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। তারা কখনো হলে থাকতে পারবেন না। ১ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে ১ সেমিস্টারের জন্য।

এর বাইরে আরও ২২ শিক্ষার্থীকে ১ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার ও অন্য ১০ জনকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হলেও এখনই তাদের শাস্তি কার্যকর করা হবে না। তাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হবে ও অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হবে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ৪৪ শিক্ষার্থীর কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব পর্যালোচনা ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য সভা বসেছিল। তবে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই শৃঙ্খলা কমিটির ওই সভা মুলতবি করা হয়েছিল।

কুয়েট ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যসচিব ও ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পরিচালক অধ্যাপক ইসমাঈল সাইফুল্যাহ এ বিষয়ে বলেন, 'মঙ্গলবার প্রায় ৮ ঘণ্টা সভা করেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বুধবার ওই সভা আবারও বসে। সেখান থেকেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৭৬তম জরুরি সভায় কর্তৃপক্ষের গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গত ২৮ নভেম্বর প্রশাসনের কাছে ৯টি সুপারিশসহ ৪৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে নাম আসা ৪৪ শিক্ষার্থীকে গত ২৯ ডিসেম্বর শোকজ করা হয়। অপরাধের প্রকৃতি উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ছাত্র শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার জবাব দিতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব শিক্ষার্থী লিখিত জবাব দেন।

ঘটনাপ্রবাহ

গত ৩০ নভেম্বর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ সেলিম হোসেন ক্যাম্পাসের কাছের ভাড়া বাসায় মারা যান। শিক্ষক সেলিমের মৃত্যুর পর অভিযোগ ওঠে, মৃত্যুর দিন দুপুরে বাসায় ফেরার পথে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অধ্যাপক সেলিমকে বিভাগে তাঁর কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর ওপর মানসিক নিপীড়ন চালানো হয়। এ ছাড়া কুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানসহ কয়েকজন ছাত্র তাঁদের মনোনীত প্রার্থীকে ডাইনিং ম্যানেজার করার জন্য হল প্রভোস্ট সেলিম হোসেনকে নিয়মিত চাপ দিয়ে আসছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বলছে, এটি হত্যাকাণ্ড। অধ্যাপক সেলিমের পরিবারও এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছে।

 ওই শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল ছুটি ঘোষণা করা হয়। সেই ছুটি দুই দফা বাড়িয়ে ৭ জানুয়ারি হল এবং ৯ জানুয়ারি ক্লাস শুরুর ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।