ফিল্ম পলিটিক্স করে বাইরের লোকেরা: অরুণা বিশ্বাস 

শাহ আলম সাজু
শাহ আলম সাজু

যাত্রা সম্রাট অমলেন্দু বিশ্বাসের মেয়ে অরুণা বিশ্বাস সিনেমায় অভিনয় করছেন ৩ দশকেরও বেশি সময় ধরে। পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকও পরিচালনা করেছেন। এই প্রথমবার সিনেমা পরিচালনা করতে যাচ্ছেন তিনি। নভেম্বরেই শুরু করবেন শুটিং।

নতুন সিনেমা, অভিনয় জীবন নিয়ে সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন অরুণা বিশ্বাস।

নতুন সিনেমা পরিচালনার কাজ কতদূর গুছিয়ে এনেছেন?

আমার পরিচালিত প্রথম সিনেমার নাম 'অসম্ভব'। এটি সরকারি অনুদানের সিনেমা। পুরোপুরি গুছিয়ে এনেছি। এই নভেম্বর মাসেই শুটিং শুরু করব। সত্যি কথা বলতে, সিনেমা মানেই বড় ক্যানভাসের কাজ। বড় করেই সবকিছু গোছাতে হয়। আমিও সেভাবে আগাচ্ছি। একটি পারিবারিক সিনেমা উপহার দিতে চাই। মানুষ যেন ভালো কিছু পায়। সিনেমাটিতে যাত্রার একটি বিষয় উঠে আসবে।

অভিনেত্রী থেকে সিনেমা পরিচালনা কতটা চ্যালেঞ্জিং?

অনেক চ্যালেঞ্জিং। ৩ দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করতে করতে নিজেকে গুছিয়েছি সিনেমা পরিচালনা করব বলে। প্রতিনিয়ত শিখছি। শেখার তো শেষ নেই। এর আগে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা পরিচালনা করেছি, নাটক পরিচালনা করেছি। এবার সিনেমা পরিচালনা করতে যাচ্ছি। ধীরে ধীরে নিজেকে প্রস্তুত করেছি। চ্যালেঞ্জিং হলেও সবার ভালোবাসা ও আশীর্বাদ নিয়ে একটি সুন্দর সিনেমা পরিচালনা করতে পারব আশা করছি।

সিনেমায় পথচলা শুরু করেছিলেন কীভাবে?

আমার প্রথম সিনেমা নায়ক রাজ রাজ্জাক পরিচালিত চাপা ডাঙার বউ। তার মতো বিখ্যাত অভিনেতা ও পরিচালকের হাত ধরে সিনেমায় আসাটা আমার জন্য অনেক বড় বিষয় ছিল। ওই সিনেমার পর অভিনয় করি খান আতা পরিচালিত পরশ পাথর সিনেমায়। প্রথম দুটিই বড় মানুষের সিনেমা ছিল। তারপর পথ চলতে চলতে এতটা বছর কেটে গেল। এখনো সে পথেই আছি।

আপনি তো সেন্সর বোর্ডেরও মেম্বার?

সেন্সর বোর্ডের মেম্বার হয়েছি, এটা একজন শিল্পী হিসেবে ভালো লাগে। এজন্য আমাকে অনেক সিনেমা দেখতে হয়। সিনেমা নিয়ে আমরা সবাই পজেটিভ। সিনেমার একটা সোনালী সময় ছিল। আমরা আশায় থাকি আবারও সুন্দর সুন্দর সিনেমা নির্মিত হবে।

সিনেমাপাড়ায় ফিল্ম পলিটিক্স বলে একটি কথা প্রচলিত আছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

ফিল্ম পলিটিক্স বাইরের লোকেরা করে। সত্যিকারের ফিল্মের মানুষরা নোংরা পলিটিক্স করে না। কেউ কেউ আছেন হঠাৎ করে সিনেমায় আসেন, ২ থেকে ৩টি সিনেমা প্রযোজনা করেন। তারপর তাদের দেখা যায় না। অতিথি পাখির মতো এসেই চলে যান। তারা ফিল্ম পলিটিক্স করেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সিনেমাকে যারা ভালোবেসে বছরের পর বছর ধরে এটাই করছেন, তারা তো এসব করেন না। তারা সত্যিই সিনেমাকে ভালোবাসেন।

বাবা যাত্রা সম্রাট অমলেন্দু বিশ্বাসের প্রভাব কতটা পড়েছে আপনার ওপর?

বাবাকে সবসময় অনুভব করি। বাবা সবসময় আছেন আমার সব ভালো কাজের সঙ্গে। বাবার প্রভাব বেশ আছে আমার ওপর। অমলেন্দু বিশ্বাস ছিলেন সত্যিকারের ধর্ম নিরপেক্ষ মানুষ। তার মতো ধর্ম নিরপেক্ষ মানুষ আর হবে না। বাবা ছিলেন যাত্রা সম্রাট। যাত্রার জন্য বাবা কি না করেছেন। বাবার কাছ থেকেই শিখেছি সবকিছু। এখনো প্রতিবাদ করতে পারি, ভালো কাজ করার চেষ্টা করি, সততা নিয়ে কাজ করি- সবই বাবার জন্য।

অভিনয় শিল্পী হতে পারা কতটা সহজ?

অভিনয় খুব কঠিন শিল্প। অভিনয় মানে সাধনা। শিল্প বিষয়টি অনেক বড়। শিল্প কখনো কম্প্রোমাইজ করে হয় না। শিল্পকে ভালোবেসে শিল্পচর্চা করতে হয়। অভিনেত্রী হতে পেরেছি কি না জানি না। অভিনয় করার চেষ্টা করি। অভিনয় নিয়ে সাধনা করি।