আফগানিস্তানে নারী সাংবাদিকদের কাজ করতে দেওয়ার আহ্বান সিপিজের
আফগানিস্তানে সাংবাদিকদের ওপর হয়রানি ও আক্রমণ অবিলম্বে বন্ধ করে, নারী সাংবাদিকদের সংবাদ সম্প্রচারের অনুমতি এবং গণমাধ্যমকে স্বাধীন ও মুক্তভাবে কাজ করার অনুমতি দিতে তালেবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।
বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনটি আজ শুক্রবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এই আহ্বান জানায়।
সংবাদ প্রতিবেদন ও সাংবাদিকদের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৫ আগস্টের পর তালেবান সদস্যরা কমপক্ষে দুই জন নারী সাংবাদিককে পাবলিক ব্রডকাস্টার রেডিও টেলিভিশন আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করতে দিচ্ছে না। পূর্ব নাঙ্গারহার প্রদেশে একটি বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের সময় দুই জন গণমাধ্যমকর্মীকে আক্রমণ করেছে তালেবানরা।
সিপিজের এশিয়া প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী স্টিভেন বাটলার বলেন, 'স্বনামধন্য নারী সংবাদ উপস্থাপকদের পাবলিক মিডিয়া থেকে চাকরিচ্যুত করা একটি অশুভ লক্ষণ। এ থেকে বোঝা যায় যে, আফগানিস্তানে মিডিয়া বা অন্য কোথাও নারীর অধিকারকে সম্মান করার বিষয়ে তালেবানরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা পালনে তাদের কোনো ইচ্ছা নেই। তালেবানদের উচিত নারীদের সংবাদ উপস্থাপনা করতে দেওয়া এবং সব সাংবাদিকদের নিরাপদে ও হস্তক্ষেপ ছাড়াই কাজ করার অনুমতি দেওয়া।'
সংবাদ প্রতিবেদন ও নারী উপস্থাপক খাদিজা আমিন সিপিজেকে জানায়, ১৫ আগস্ট কাবুলে প্রবেশের দিন তালেবান সদস্যরা রেডিও টেলিভিশন আফগানিস্তানের স্টেশনে আসে এবং একজন পুরুষ তালেবান সদস্য খাদিজা আমিনের জায়গা দখল করে নেন।
খাদিজা আমিন বলেন, 'আমি যখন পরের দিন স্টেশনে ফিরে আসি, তখন স্টেশনের নেতৃত্ব গ্রহণ করা একজন তালেবান সদস্য আমাকে আরও কিছুদিন বাড়িতে থাকতে বলেন। কখন আমি কাজে ফিরতে পারবে, তা আমাকে পরে জানানো হবে বলে বলা হয়।'
রেডিও টেলিভিশন আফগানিস্তানের সংবাদ উপস্থাপিকা শবনম দাওরান সিপিজেকে জানান, তালেবান সদস্যরা তাকে অফিসে প্রবেশ করতে নিষেধ করেন এবং বলেন যে, 'শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, বাড়ি ফিরে যান।' পুরুষ কর্মচারীদের স্টেশনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তাকে দেওয়া হয়নি। ১৭ আগস্ট তালেবান নিযুক্ত একজন নিউজকাস্টারকে তার জায়গায় বসানো হয়।
তালেবানরা গতকাল বেসরকারি মালিকানাধীন বার্তা সংস্থা পাবাবাক নিউজের ভিডিও রিপোর্টার বাবরাক আমিরজাদা এবং বেসরকারি মালিকানাধীন সংবাদ ও বিনোদন সম্প্রচারকারী আরিয়ানা নিউজের ক্যামেরা অপারেটর মাহমুদ নায়েমিকে মারধর করেন। তারা পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশের জালালাবাদ শহরে একটি বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন বলে আহত দুই সাংবাদিক সিপিজেকে জানায়।
সাংবাদিকরা সিপিজেকে জানান, আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকার সমর্থনে জড়ো হয়ে কিছু লোক বিক্ষোভ করছিলেন। তারা দুই জন সেই সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন। তালেবানরা সেই বিক্ষোভে প্রবেশ করে বিক্ষোভকারীদের মারধর করে এবং লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
আমিরজাদা ও নায়েমি জানান, তালেবানরা তাদের দুই জনকে মাটিতে ফেলে দেয়। আমিরজাদাকে মাথায়, হাতে, বুকে, পায়ে এবং নায়েমিকে রাইফেলের নিচের অংশ দিয়ে পায়ে আঘাত করে। সিপিজে তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকদের আঘাতের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেনি।
ম্যাসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে এই বিষয়ে তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি সিপিজের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি।
তালেবানরা পশ্চিম আফগানিস্তানে একটি মিডিয়ার সম্পাদকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে, তাদের পরিবারের একজনকে গুলি করে হত্যা করেছে এবং অপর একজনকে গুরুতর আহত করেছে—এমন একটি সংবাদ জার্মান পাবলিক
ব্রডকাস্টার ডয়চে ভেলেতে প্রকাশিত হয়েছে। তালেবানরা জার্মানিতে পালিয়ে আসা সাংবাদিককেও খুঁজছিল। সিপিজে সেই প্রতিবেদনটি নিয়ে তদন্ত করছে।
সিপিজের প্রতিবেদন অনুসারে, এই সপ্তাহের শুরুতে দেশে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তালেবানরা অন্তত চার জন মিডিয়া কর্মীর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে।