তালেবান-বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে ৩ জেলা

স্টার অনলাইন ডেস্ক

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে পাঞ্জশির উপত্যকার কাছাকাছি তিনটি জেলা তালেবানদের কাছ থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী ও তালেবান-বিরোধী মিলিশিয়া গোষ্ঠীরা।

গতকাল শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবানকে প্রতিরোধের ঘোষণা দেওয়া আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল বিসমিল্লাহ মোহাম্মাদি এক টুইটার বার্তায় বলেন, পাঞ্জশিরের উত্তরে বাঘলান প্রদেশের দেহ সালেহ, বানো ও পুল-হেসার জেলাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে।

কোন ধরনের বাহিনী জেলাগুলো দখলের সঙ্গে জড়িত ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে এ ঘটনায় তালেবানদের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

তালেবানরা খুব দ্রুত সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে রাজধানী কাবুলসহ আফগানিস্তানের সব বড় শহর দখল করে নেয়।

এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে টেলিভিশন চ্যানেল টোলো নিউজ জানিয়েছে, বানো জেলাটি এখন স্থানীয় মিলিশিয়াদের দখলে। সংঘর্ষে বহু হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে তালেবানরা কোনো মন্তব্য করেনি।

সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ ও সাবেক সোভিয়েতবিরোধী মুজাহিদীন কমান্ডার আহমাদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমাদ মাসুদ তালেবানের বিরুদ্ধে পাঞ্জশিরে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রতিজ্ঞা করেছেন।

মাসুদের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, ছয় হাজারেরও বেশি যোদ্ধা পাঞ্জশির উপত্যকায় জড়ো হয়েছেন। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনী ও বিশেষ বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি স্থানীয় মিলিশিয়ারা আছেন।

তাদের কাছে কয়েকটি হেলিকপ্টার ও সামরিক যান আছে এবং তারা সেখানে সোভিয়েতদের ফেলে যাওয়া কয়েকটি সামরিক যান মেরামত করেছেন।

তালেবানরা এখন পর্যন্ত পাঞ্জশিরে ঢোকার চেষ্টা করেনি। সেখানে এখনও ৩০ বছরের আগের সোভিয়েত যুদ্ধযানের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে।

পশ্চিমের কূটনীতিকসহ সংশ্লিষ্টরা এই দলগুলোর একত্রিত হয়ে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এর জন্যে বাইরের সমর্থনের পাশাপাশি অস্ত্রের প্রয়োজন আছে।