অবশেষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি ব্যবহারের তালিকায় ভারতীয় কোভ্যাক্সিন

স্টার অনলাইন ডেস্ক

অবেশেষে ভারতীয় করোনার টিকা কোভ্যাক্সিনকে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)।

আজ বুধবার ডাব্লিউএইচও এই অনুমোদন দিয়েছে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ফলে, ভারত ছাড়া অন্য যেসব দেশের মানুষ এই টিকা নিয়েছেন তাদের বিদেশ ভ্রমণে কোয়ারেন্টিন বা বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হবে না।

ডাব্লিউএইচও টুইট করেছে, করোনা প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈধ টিকার ক্রমবর্ধমান পোর্টফোলিওতে ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন জরুরি ব্যবহারের তালিকায় (ইইউএল) জায়গা পেয়েছে।

দীর্ঘ ও কঠোর পর্যালোচনার পর জরুরি তালিকা বা ইইউএল প্রস্তুত করা হয়। কোভ্যাক্সিন উৎপাদনকারী ভারত বায়োটেক গত এপ্রিলে প্রথম আবেদন করেছিল এবং জুলাইয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেছিল। যেখানে টিকার সুরক্ষা, কার্যকারিতা এবং স্থিতিশীলতা নিয়ে আশ্বাসের পাশাপাশি উৎপাদন সুবিধা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।

গত সপ্তাহে টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ (একটি স্বাধীন প্যানেল যারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সুপারিশ করে) একটি 'চূড়ান্ত ঝুঁকি-সুবিধা মূল্যায়ন' করতে 'অতিরিক্ত ব্যাখ্যা' চেয়েছিল।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ডা. মার্গারেট হ্যারিসের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, '...যদি কমিটি সন্তুষ্ট হয়, তাহলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি সুপারিশ আশা করব।'

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও বলেছে, আমরা বুঝতে পারছি- অনেকেই কোভ্যাক্সিনকে করোনার চিকিৎসায় জরুরি ব্যবহারে তালিকাভুক্তির অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু, জরুরি ব্যবহারের জন্য একটি পণ্য সুপারিশ করার আগে আমরা কিছু বিষয় এড়িয়ে যেতে পারি না… এটি নিরাপদ এবং কার্যকর প্রমাণে আমাদের অবশ্যই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করতে হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও জানিয়েছে, জরুরি ব্যবহারের তালিকা অনুমোদনের সময়সীমা সাধারণত ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কত দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম তার ওপর নির্ভরশীল।

এতে বলা হয়েছে, যখন প্রদত্ত তথ্য উত্থাপিত সব প্রশ্নের সমাধান করবে, তখনই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং প্রযুক্তিগত উপদেষ্টারা মূল্যায়ন শেষে চূড়ান্ত সুপারিশে আসবে।

কোভ্যাক্সিন ভারতীয় টিকাগুলোর একটি। আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২.১৪ কোটিরও বেশি মানুষকে এই টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

কোভ্যাক্সিন করোনার বিরুদ্ধে ৭৭.৮ শতাংশ কার্যকারিতা এবং নতুন ডেল্টা ভেরিয়েন্টের বিরুদ্ধে ৬৫.২ শতাংশ সুরক্ষা প্রদর্শন করেছে।

ভারত বায়োটেক জানিয়েছে, তারা ফেজ-৩ পরীক্ষায় কোভ্যাক্সিনের কার্যকারিতার চূড়ান্ত বিশ্লেষণ শেষ করেছে।