কাশ্মীরে সংখ্যালঘুদের হত্যার ঘটনা তদন্ত করবে এনআইএ

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৪ জনকে হত্যার ঘটনা তদন্ত করবে দেশটির ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)।

এনডিটিভি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ খুঁজে বের করার জন্য এনআইকে এই দায়িত্ব দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে তারা জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশের কাছ থেকে চারটি মামলার তদন্তভার বুঝে নেবে।

সর্বশেষ গত রোববার রাজা রিশিদেব ও যোগেন্দ্র রিশিদেব নামে দুজন দিনমজুর কুলগ্রাম জেলার ওয়ানপোহ এলাকায় গুলিতে নিহত হন। এই ঘটনার একদিন আগে বিহার থেকে আসা একজন ফুটপাতে খাবার বিক্রেতা ও উত্তর প্রদেশের একজন কাঠমিস্ত্রিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এর আগে এই মাসে যারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন কাশ্মীরের পণ্ডিত সম্প্রদায়ের একজন বর্ষীয়ান ও খ্যাতনামা ব্যক্তি, শ্রীনগরের একজন ফার্মেসি মালিক, বান্দিপুর জেলার একজন ট্যাক্সি ক্যাব চালক এবং বিহার থেকে আসা একজন ফেরিওয়ালা এবং কাশ্মীরের সংখ্যালঘু শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের দুজন শিক্ষক।

এনডিটিভি জানায়, এসব হত্যার ঘটনায় জম্মু-কাশ্মীরে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর ফলে দলে দলে কাশ্মীরি পণ্ডিত বংশোদ্ভূতরা পালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি যারা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পের আওতায় প্রত্যাবর্তন করে সরকারি চাকরি করছিলেন, তারাও চলে যাচ্ছেন।

অন্য রাজ্য থেকে আসা শ্রমিক ও কর্মীরাও জম্মু ও কাশ্মীর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের শিকার এক ব্যক্তির প্রতিবেশী এনডিটিভি কে জানান, তিনি তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা করছেন এবং এ কারণেই তিনি চলে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনী একটি বড় অভিযান পরিচালনা করেছে এবং জামাত-ই-ইসলামীর মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ততার অভিযোগে প্রায় ৯০০ মানুষকে আটক করেছে। পুলিশ কিছু আক্রমণের জন্য 'দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট' কে দায়ী করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই দলটি নিষিদ্ধ সংগঠন 'লশকর-ই-তাঈবা'র সহ-সংগঠন।

কাশ্মীরে সম্প্রতি জঙ্গি-বিরোধী অভিযানের সংখ্যাও বেড়েছে। গত শনিবার লশকর-ই-তাঈবার একজন কমান্ডারসহ দুজন পুলওয়ামা জেলায় নিহত হন। শুক্রবারে পুলিশ জানিয়েছিল দুজন বেসামরিক ব্যক্তি ও একজন পুলিশকে হত্যা করার সঙ্গে জড়িত দুই জঙ্গি পরপর দুটি 'এনকাউন্টারে' নিহত হয়েছেন।

এর আগের সপ্তাহে পুলিশ জানায়, তারা ট্যাক্সি ক্যাব চালকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক জঙ্গিকে হত্যা করেছে।

এই হামলার ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে এসেছে যখন দেশের সামরিক বাহিনী পুঞ্চ জেলায় তাদের দীর্ঘতম ও সবচেয়ে কঠিন জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। সেখানে ভয়াবহ লড়াইয়ে ইতোমধ্যে ৯ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে। লড়াইয়ের তীব্রতা বিশ্লেষণ করে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সূত্রগুলো ধারণা করছেন জঙ্গিরা সম্ভবত পাকিস্তানি কমান্ডোদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।