শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল

হিজাব ধর্মীয় অনুশাসনের অত্যাবশ্যকীয় অংশ নয়: কর্ণাটক হাইকোর্ট

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ভারতের কর্ণাটকের হাইকোর্ট বলেছেন, হিজাব ধর্মীয় অনুশাসনের অত্যাবশ্যকীয় অংশ নয়। শ্রেণীকক্ষে হিজাব পরার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট আজ মঙ্গলবার এই রায় দেন। 
 
এখন পর্যন্ত এ বিষয়ের ওপর আদালতে ৫টি আলাদা রিট আবেদন জমা পড়েছে। আজ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
 
আদালত আজ এই রায় ঘোষণার আগে কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে 'জনসাধারণের শান্তি ও শৃঙ্খলা' বজায় রাখার উদ্দেশ্যে সব ধরনের জনসমাবেশের ওপর এক সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। অপর গুরুত্বপূর্ণ শহর মেঙ্গালোরেও ১৫ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এ ছাড়াও, উদুপিতে আজ সব স্কুল ও কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
 
এর আগে, গত মাসে কর্ণাটকের হাইকোর্ট সাময়িকভাবে ধর্মীয় পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন, যার মধ্যে মুসলমানদের হিজাব ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের গেরুয়া বসনও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেসময় শ্রেণীকক্ষে হিজাব পরে ক্লাস করা নিয়ে পুরো রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তর্ক, বিতর্ক ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে হাইকোর্ট এ সিদ্ধান্ত নেন।
 
হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের পর থেকে কর্ণাটকের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই হিজাব পরে স্কুল ও কলেজে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। 

এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীরা, যাদের মধ্যে বেশ কিছু মুসলমান শিক্ষার্থী রয়েছেন, তারা আদালতকে জানান, হিজাব পরা তাদের সংবিধানসম্মত মৌলিক অধিকার এবং ইসলাম ধর্মের অত্যাবশ্যক অনুশাসন, যা সব মুসলমানকে মেনে চলতে হয়। তবে ১১ দিনের শুনানির পর হাইকোর্ট ২৫ ফেব্রুয়ারির রায়কে বহাল রেখেছেন।
 
হিজাব খুলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে বাধ্য হওয়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গোটা ভারতে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। হাইকোর্ট তারপর বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য জানান, নিষেধাজ্ঞাটি সাময়িক এবং কেবল শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য, শিক্ষকদের জন্য নয়।
 
গত বছরের শেষের দিকে কর্ণাটকে হিজাব বিতর্কের সূত্রপাত হয়। উদুপির একটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, তাদেরকে মাথায় স্কার্ফ পরে শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
 
এরপর ৫ ফেব্রুয়ারি কর্ণাটক রাজ্যে 'আইন-শৃঙ্খলার পরিপন্থী সব পোশাকের' ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং ১০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাময়িকভাবে সব ধরনের ধর্মীয় পোশাকের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
 
এরপর এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দায়ের করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। 

তবে আজকের রায়ে আগের নিষেধাজ্ঞাকে বহাল রাখা হয়েছে।