রেলওয়ের গেটকিপারদের আমরণ অনশন: তৃতীয় দিনে হাসপাতালে ৭
বাংলাদেশ রেলওয়ের মান উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে নিয়োগ পাওয়া ১ হাজার ৮৮৯ জন গেটকিপারের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থায়ীকরণের দাবিতে আমরণ অনশন করছেন গেটকিপাররা। অনশনের তৃতীয় দিনে তাদের মধ্যে প্রায় ২০ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
আজ মঙ্গলবার 'বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও রেলপোষ্য এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৮৮৯ জন গেটকিপার রাজস্বকরণ বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদ পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চল' এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কমলাপুর রেলওয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই অনশন শুরু হয়। অনশনকারীদের মধ্য থেকে অসুস্থ হয়ে পড়া কুলাউড়া সেকশনের রায়হান, টঙ্গির লাকী আক্তার ও ফেনীর হালিমা খাতুনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং যশোর সেকশনের চামেলি বেগম, শ্রীমঙ্গলের আকুল মন্ডল, জামালপুরের কাকলি বেগম ও শ্রীমঙ্গলের কাউছার আহম্মেদ অনিককে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হযেছে। বাকিদের অনশনস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঐক্য পরিষদ।
তারা জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মান উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পে ১৮৮৯ জন গেটকিপারকে অস্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ৫৭২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ৫৫৫ জন রেলপোষ্য এবং ৩২৫ জন নারী রয়েছেন। ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্পে কর্মরত গেটকিপারদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তরে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেন।
তারা আরও জানান, নিয়োগের সময় গেটকিপারদের বেতন নির্ধারণ করা হয় সাকুল্যে ১৪ হাজার ৪৫০ টাকা। নিয়োগের পর আর বেতন বৃদ্ধি করা হয়নি। বেশির ভাগ গেটকিপার নিজ জেলার বাইরে কাজ করায় এই বেতনে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পরেছে। সেই সঙ্গে প্রায় সবার বয়স ৩২ বছর পার হয়ে যাওয়ায় অন্য সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ারও সুযোগ নেই।