ঈদগাহ ময়দানে শুধু ছাতা-জায়নামাজ আনার অনুরোধ ডিএমপির

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

ঈদ জামাতে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ছাতা ও জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু না আনার অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মুহা. শফিকুল ইসলাম।

রাজধানীবাসীকে সময় নিয়ে ঈদগাহ ময়দানে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

আজ রোববার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানীজুড়ে ঈদগাহ ও মসজিদ মিলিয়ে ১ হাজার ৪৬৮ স্থানে ঈদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা হবে। কোনো কোনো মসজিদে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মসজিদ এবং ঈদগাহ যেখানে জামাত অনুষ্ঠিত হবে প্রত্যেকটি জায়গায় আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আগে থেকে সুইপিং করা হবে, পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় থাকবে। যারা এখানে নামাজ পড়ার জন্য আসবেন প্রয়োজন বোধে শারীরিক তল্লাশি করা হবে, আর্চওয়ের ভেতর দিয়ে যেতে হবে। এই পুরো এলাকায় ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। আবহাওয়া বিরূপ হলে যদি এখানে নামাজ পড়া সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে বায়তুল মুকাররমেও একই ব্যবস্থা থাকবে।

আমরা মনে করছি, অন্যান্যবারের তুলনায় এবারের ঈদ ব্যতিক্রমধর্মী হবে। কারণ গত ২ বছর উৎসব যেটা বলি সেটা করতে পারিনি। এবার মানুষের অংশগ্রহণ বেশি থাকবে। জাতীয় ঈদগাহে ছাতা এবং জায়নামাজ ছাড়া অন্য কোনো কিছু না নিয়ে আসার অনুরোধ করছি। একটু আগে চলে আসবেন কারণ অনেক লম্বা লাইন থাকে। তল্লাশি করা হয়, ফলে একটু সময় লাগে—বলেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমরা মনে করি না ঈদের জামাতে জঙ্গি হামলার কোনো সম্ভাবনা আছে। শোলাকিয়ায় যে ধরনের হামলা হয়েছে সেটি একেবারে ব্যক্তিকেন্দ্রিক। ঈদগাহের ইমামকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছিল। তাই এবার আমরা মনে করিনা এমন কোন হামলার সম্ভাবনা আছে।

ঈদের ছুটিতে ঢাকা প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। বেড়ে গেছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, গোয়েন্দা শাখা এবং থানা পুলিশ তালিকা করে গত ১ মাসে তালিকাভুক্ত ৫ শতাধিক ছিনতাইকারী-চোর গ্রেপ্তার করেছে। তবে এত বড় একটি শহরে দুএকটি ঘটনা ঘটবেই। সেটা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কারো নেই। সারা বিশ্বে কখনো কোনো জায়গায় এটি করতে পারেনি। আমরা সাধ্য মতো চেষ্টা যাচ্ছি। পুলিশের পাশাপাশি মানুষেরও দায়িত্ব থাকে। জীবন ও সম্পদ রক্ষা করার প্রাথমিক দায়িত্ব আপনারই। আপনি যদি ট্রেন লাইনের ওপর শুয়ে থাকেন, পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করবে সেটা কোনো বুদ্ধির কাজ না। একইভাবে সম্পদ যদি অরক্ষিত জায়গায় ফেলে রেখে মনে করেন পুলিশ পাহারা দেবে সেটি কোনো বুদ্ধির কাজ না।