এস আলম সয়াবিন তেলের বোতলের গায়ে বেশি দাম, খোলা ড্রামে পাম অয়েল
চট্টগ্রাম মহানগরীতে এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের কারখানায় ৫ লিটারের বোতলের গায়ে ৮৩৫ টাকা মূল্য লেখা পাওয়া গেছে, যা সরকার নির্ধারিত বর্তমান মূল্য থেকে বেশি। এছাড়া খোলা ড্রাম থেকে পাম অয়েল সরবরাহের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রোববার কর্ণফুলী থানাধীন মইজ্জার টেক এলাকার এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের কারখানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কারখানায় ৫ লিটারের বোতলের গায়ে ৮৩৫ টাকা মূল্য লেখা পাওয়া গেছে, যা সরকার নির্ধারিত বর্তমান মূল্য থেকে বেশি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বোতলজাত ৫ লিটার সয়াবিন তেলের দাম ৭৯৫ টাকা।
বোতলের গায়ে তেলের দাম বেশি লেখার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির জি এম রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা সরকারের নির্ধারিত দামেই তেল বিক্রি করছি। বাজারে বেশি দামে বিক্রি বা বোতলে বেশি দামের বিষয়ে আমরা জানি না।'
এছাড়া পাম অয়েলের ড্রামে মেয়াদ ও ড্রাম প্রতি মূল্য লেখা ছিল না। আর ড্রামগুলো খোলা থাকায় পাম অয়েলকে সয়াবিন তেল হিসেবে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে বলে জানান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আনিছুর রহমান।
তিনি আরও জানান, কারখানার রিফাইনারি সেকশন ও তেল বোতলজাতকরণ ইউনিট বন্ধ পাওয়া যায়। কেন বন্ধ জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান যে বোতলজাত তেলের অর্ডার নেই বলে উৎপাদন বন্ধ।
এসব তথ্য যাচাইয়ের জন্য এ সংক্রান্ত নথিপত্র জব্দ করা হয় অভিযানে।
এ বিষয়ে এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) কামরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, 'যন্ত্রপাতির ত্রুটির কারণে কারখানায় বোতলজাত তেল উৎপাদন বন্ধ আছে। তেলের মান ঠিক রাখতে এসব ত্রুটি সারানো দরকার। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে এর সমাধান হয়ে যাবে এবং আমরা উৎপাদনে যাব।'
এছাড়া এ অভিযানে ৬টি প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে মোট ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বেশি মূল্যে তেল বিক্রি, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, অননুমোদিত টেক্সটাইল রঙ বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির জন্য এসব জরিমানা করা হয়।