ওবায়দুল কাদের জনসভা উপলক্ষে নোয়াখালীতে ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ, জনদুর্ভোগ
নোয়াখালীর মাইজদী শহরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের জনসভা উপলক্ষে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় সড়ক অবরোধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সোনাপুর-চৌমুহনী আঞ্চলিক মহাসড়কে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এ জনসভার আয়োজন করা হয়।
সভা উপলক্ষে রাস্তা বন্ধ থাকায় শত শত যানবাহন ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকে। এ সময় শত শত নারী-পুরুষ-শিশুকে কয়েক মাইল হেঁটে যেতে দেখা যায়।
দীর্ঘ ৩৩ মাস পর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ওবায়দুল কাদের তার নিজ নির্বাচনী এলাকা কোম্পানীগঞ্জ যান। সেখান থেকে বিকেলে তিনি সংসদীয় আসনের কবিরহাট জিরো পয়েন্টে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এবং জনসাধারণের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ ও সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য জেলা সদরে যান।
কিন্তু জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করার জন্য মাইজদী শহরে ভিড় জমান। এতে দুপুর ২টা থেকে সোনাপুর-চৌমুহনী চৌরাস্তা আঞ্চলিক মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ সময় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক আমির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সোনাপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে বাঁধন পরিবহনে বেলা ২টা সময় উঠেছি। ১ ঘণ্টা পর মাইজদী শহরে এসে বসে আছি। ৩ ঘণ্টায়ও বাস ছাড়ার কোনো লক্ষণ না দেখে পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করেছি।'
কুমিল্লা থেকে সোনাপুরগামী উপকূল এক্সক্লুসিভ পরিবহনের যাত্রী হোসনে আরা ডেইলি স্টারকে বলেন, 'জনসভা উপলক্ষে সড়ক কেন বন্ধ থাকবে? দীর্ঘ সময় বাসে বসে থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'যেখানে বিরোধী দল সড়ক অবরোধ করার কথা, সেখানে সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় সড়ক অবরোধ। এটা কেমন কথা?'
এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমরা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু নোয়াখালীর মানুষ আবেগপ্রবণ হয়ে তাকে দেখতে আসায় জনসমুদ্র হয়ে গেছে। কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকাটা ছিল অনিচ্ছাকৃত। জনতার ঢল কিছুতেই সামাল দেওয়া যাচ্ছিল না।'
সন্ধ্যা ৬টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে জনসভায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক ও পৌর মেয়র শহীদ উল্যাহ খান সোহেলের সঞ্চালনায় ও জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ওবায়দুল কাদের।
বক্তব্যে তিনি বলেন, 'জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যার সে উন্নয়ন ও দেশের অগ্রগতিকে অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।'
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'দল করলে নিয়ম মেনে চলতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সুন্দর আচরণের মধ্য দিয়ে জনগণের মন জয় করতে হবে। নোয়াখালীর মানুষের মনে কষ্ট দেওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে ক্ষমতা চিরদিন থাকে না। তাই ক্ষমতার দাপট দেখানো যাবে না।'
'নোয়াখালীর মাটি ও মানুষ চিরস্থায়ী, কিন্তু ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হবে,' বলেন তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, 'পাথরে লিখো নাম পাথর ক্ষয়ে যাবে, কাগজে লিখো নাম কাগজ ছিঁড়ে যাবে, হৃদয়ে লিখো নাম সে নাম রয়ে যাবে।'
এরপর তিনি বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে ঈদের আগে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কেট পরিদর্শনে যান। সেখান থেকে তিনি ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও জনসাধারণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে নোয়াখালী ত্যাগ করেন।