কাজিরহাট-আরিচা রুটে চলছে একটি ফেরি, ঘাটে অচলাবস্থা
একটি মাত্র ছোট ফেরি দিয়ে সেবা চলমান রয়েছে কাজিরহাট-আরিচা রুটে। সম্প্রতি অপর একটি ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সরিয়ে নেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে প্রায় অচলাবস্থায় উত্তরবঙ্গের প্রধান এ ফেরিঘাটটি।
মূলত ট্রাক পারাপারে ব্যবহৃত এই ঘাট দিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলও পারাপার করা হয়। চলমান ফেরিটিতে একবারে পার করা যায় মাত্র ৮টি ট্রাক। ব্যক্তিগত গাড়ি থাকলে ফেরিতে ট্রাক ওঠানো হয় কম। ফলে ঘাটের ২ পারে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে ট্রাকের সারির দৈর্ঘ্য।
প্রতিদিন কাজিরহাট-আরিচা রুটে ফেরিটি মোট ১০ বার যাওয়া-আসা করতে পারে। অন্যান্য গাড়ি ও মোটরসাইকেল পারাপার করার পর প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০টির বেশি ট্রাক পার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা যায় ঘাট সূত্রে।
কাজিরহাট ফেরিঘাটের ম্যানেজার মাহাবুবুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, '৪টি ফেরি দিয়ে কাজিরহাট ফেরিঘাটে মালবাহী ট্রাক পারাপার করা হলেও এক মাসের বেশি সময় আগে বেগম রোকেয়া ও বেগম সুফিয়া নামে বড় ২টি ফেরি নিয়ে যাওয়া হয় মাওয়া ঘাটে।'
তিনি আরও বলেন, 'ক্যামেলিয়া, কপতি ও কদম নামের ৩টি ছোট ফেরি দিয়ে কোনো রকমে এই ঘাটের সেবা চালু রাখা হয়। গাড়ির জট থাকলেও প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি গাড়ি পার করা হচ্ছিল। ২ সপ্তাহ আগে কপতি এবং গত সোমবারে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ক্যামেলিয়া ফেরিটি ডকইয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে গত ২ দিন ধরে মাত্র একটি ফেরি দিয়ে ঘাট চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পরেছে।'
'ঘাটের ২ পার থেকে প্রতিদিন ৩০০ গাড়ি যাতায়াত করে। গত ২ দিনে প্রতিদিন গড়ে ৩০টির বেশি ট্রাক পারাপার করা সম্ভব হয়নি। এতে করে ব্যস্ততম এ ফেরিঘাটে পুরো অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে,' যোগ করেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার দ্য ডেইলি স্টারের কথা হয় ট্রাক ড্রাইভার হাবিবুর রহমানের সঙ্গে। বুড়িমারি বন্দর থেকে মালবাহী ট্রাক নিয়ে গাবতলি যাওয়ার জন্য তিনি কাজীরহাটে ৫ দিন অপেক্ষা করে গত সোমবার পার হতে পেরেছেন। ফিরতি ট্রিপ নিয়ে তিনি আবার আরিচায় অপেক্ষায় আছেন।
ক্ষোভের সঙ্গে হাবিবুর বলেন, 'পর্যাপ্ত ফেরি না থাকলে ঘাট চালিয়ে লাভ কী? ফেরির অপেক্ষায় দিনের পর দিন ঘাটে বসে থাকি। এভাবে ঘাটে বসে দিন চলে গেলে মাস শেষে কয় টাকা আয় করব? সেটা দিয়ে সংসার চলবে? ফেরি না থাকায় গত ১২ দিনে একটি ট্রিপ শেষ করতে পারিনি। এবার পার হতে কয়দিন লাগবে কে জানে।'
বিআইডাব্লিউটিসি কর্মকর্তারা জানান, ফেরি সংকটের কারণে এখনি নতুন কোনো ফেরি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে সংকট নিরসনে চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।