দেশীয় প্রজাতির বীজের প্রসারে ‘বীজমেলা’ অনুষ্ঠিত
বিভিন্ন ধরনের দেশীয় প্রজাতির ফসল, সবজি, ফলদ ও বনজ উদ্ভিদের বীজ সংরক্ষণ, প্রদর্শনী, বিনিময় ও বিপননের উদ্দেশ্যে খুলনার বটিয়াটার গঙ্গরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে এক গ্রামীণ বীজমেলার আয়োজন করা হয়।
বুধবার বিকেলে ব্যতিক্রমধর্মী এই মেলা বসে।
মেলায় প্রতিটি স্টলে কমপক্ষে ২৫ থেকে ১১০ জাত ও প্রজাতির বীজ প্রদর্শীত হয়।
উন্নয়ন সহযোগী মিজরিওর জার্মানির সহযোগিতায় ৩০টি কৃষক সংগঠন মেলাটি আয়োজনে সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।
মেলায় কৃষকদের প্রদর্শিত বীজের স্টলগুলো থেকে বীজের সংখ্যা, বৈচিত্র্যময়তা, বীজের মান এবং বীজ উপস্থাপন কৌশলের ওপর ভিত্তি করে একটি নির্বাচনী প্যানেলের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী নারী কৃষকদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
মেলায় ১৭টি গ্রামের ৫৩টি দেশি প্রজাতির বীজের স্টলে নানা ধরনের দেশীয় বীজ প্রর্দশিত হয়।
গত ১০ বছর ধরে ওই অঞ্চলের নারীদের নিয়ে একটি বীজমেলার আয়োজন করা হয়। আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামের নারীরা এতে অংশ নেন। তারা সেখানেই বীজের গুণগতমান, উত্পাদনপ্রণালী, বীজের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন।
মেলায় অংশ নেওয়া নারীরা জানান, সেখানে বীজ সংরক্ষণ করার মাধ্যমে স্থানীয় ঐতিহ্যকে ধরে রাখা, নিজেদের মধ্যে বীজ বিনিময় করা, বৈচিত্র্যময় বীজ সংরক্ষণ করা, দেশীয় বীজ বৈচিত্রের সম্প্রসারণ, স্থানীয় প্রজাতির বীজ যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম তার প্রচার করা ও কৃষিতে কৃষকের মালিকানা প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরা হয়।
বীজমেলায় অংশ নেওয়ার ঝড়ভাঙ্গা গ্রামের লক্ষ্মী রানী মণ্ডল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'প্রায় ১৭ বছর ধরে আমি স্থানীয় প্রজাতির বীজ সংগ্রহ করি। এর ফলে আমার আর কোম্পানি থেকে বীজ কেনা লাগে না। কোম্পানিগুলোর বীজ অনেক সময় ঠিকমতো ফোটে না।'
'বিরুদ্ধ পরিবেশে হাইব্রিড প্রজাতির বীজ যে ঠিকমতো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম না, তা এই অঞ্চলের নারীরা বুঝেই নিজেরা বীজ সংরক্ষণ করছেন', বলেন লক্ষ্মী রানী।
'যদি হঠাৎ করে ঝড়-বৃষ্টি হয় তাহলে হাইব্রিড প্রজাতির বীজ বা চারা নিজেদের রক্ষা করতে পারে না। কিন্তু স্থানীয় প্রজাতির বীজের অভিযোজন ক্ষমতা ভালো। শত শত বছর ধরে তার এই ক্ষমতা তৈরি হয়েছে, বলেন মেলায় অংশ নেওয়া শুকদাড়া গ্রামের করুণা মণ্ডল।
বীজমেলায় কয়েক গ্রামের নারীরা তাদের সংরক্ষিত বীজ আদান-প্রদান করেন। মেলার মাধ্যমে আরও বেশি স্থানীয় বীজ সংরক্ষণের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে এবং স্থানীয় বীজের প্রসার ঘটছে বলে জানা গেছে।
বীজমেলায় মূলত কৃষকেরা একে অপরের সম্পর্কে জানতে পারেন এবং তারা তা বিনিময় করেন। দেখা গেছে বীজমেলায় কেউ কেউ ১৩০ প্রজাতির বীজ সংরক্ষণ করে এনেছেন, কারও কারও বীজ সংরক্ষণের বৈচিত্র্য অন্যদের উৎসাহিত করেছে।
লোকজের নির্বাহী পরিচালক দেবপ্রসাদ সরকারের সভাপতিত্বে মেলা শেষে এক আলোচনা সভায় অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রবিউল ইসলাম, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার শামীম আরা নিপা ও গঙ্গারামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আসলাম হালদার।