‘নগরায়ন ও শিল্পায়নের কারণে দেশে বছরে ০.৪৩ শতাংশ কৃষি জমি কমছে’

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বাংলাদেশে নগরায়ন ও শিল্পায়নের কারণে বছরে শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ কৃষি জমি কমছে বলে কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক জানিয়েছেন। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় 'বার্লিন কৃষিমন্ত্রীদের সম্মেলনে' ভার্চুয়ালি যোগদান করে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি মাটির টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে সম্মিলিত বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি বলে উল্লেখ করেন।

জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি অব ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারের (বিএমইএল) আয়োজনে ভার্চুয়াল এ সম্মেলনে বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের কৃষিমন্ত্রী ও ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী ড. রাজ্জাক বাংলাদেশে মাটির টেকসই ব্যবহারের নানা চ্যালেঞ্জ ও তা মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, 'ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশে মাটির অতিরিক্ত ব্যবহার, মাটির অবক্ষয়, দূষণ, লবণাক্ততা, জলবায়ু পরিবর্তন, মাটির পুষ্টি উপাদানের অবক্ষয়, মাটি ক্ষয় প্রভৃতি সমস্যা আছে। তাছাড়া নগরায়ন, শিল্পায়নসহ নানা কারণে দেশে বছরে কৃষি জমি কমছে শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ।'

বাংলাদেশ সরকার মাটির টেকসই ব্যবহারের জন্য স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে ও বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।

মাটির অবক্ষয়ের কারণে আগামী ২৫ বছরে বিশ্বে খাদ্যের দাম ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে বলে খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক এই বৈশ্বিক সম্মেলনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

সম্মেলনে জানানো হয়, বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদনের ৭০ শতাংশ মাটির ওপর নির্ভরশীল। নগরায়ন, শিল্পায়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, জমির উৎপাদনশীলতা হ্রাস, দূষণ, লবণাক্ততা, মরুকরণ নানা কারণে সারা বিশ্বের মাটিই এখন হুমকির সম্মুখীন।

বিশ্বের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে বেশি জমি প্রয়োজনের বিষয়টি সামনে রেখে সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা একটি যৌথ ইশতেহার তৈরি করেন। মাটির টেকসই ব্যবহার ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে যৌথ ইশতেহারে ৪টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে ২৯টি বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

৪টি বিষয় হলো-মাটির অবক্ষয় রোধে করণীয়, অবক্ষয় হওয়া মাটির উন্নয়ন, সীমিত জমির টেকসই ব্যবহার ও কৃষি জমি রক্ষা এবং কৃষকদের জমির মালিকানা পাওয়ার উপায়।