মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাতাস
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সর্বত্রই এখন যেনো মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ। তবে এ বছর শীত বেশি দিন থাকায় এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ২ দফা বৃষ্টির কারণে মুকুল আসতে একটু দেরি হয়েছে।
আম চাষি ও বাগান মালিকরা বলছেন, এখন পর্যন্ত মুকুলের অবস্থা বেশ ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমের উৎপাদন ভালো হবে।
আম চাষিরা জানান, এই মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাগানগুলোতে দেরিতে মুকুল আসলেও বেশিরভাগ গাছ মুকুলে ছেয়ে গেছে। তবে অপেক্ষাকৃত ছোট গাছের চেয়ে বড় গাছে মুকুল কম হয়েছে। চাষিরা মুকুলের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সদর উপজেলার টিকরা গ্রামের সাইদুর রহমানের সঙ্গে তার বাগানে গিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের কথা হয়। তিনি জানান, শীত বেশি দিন থাকার কারণে মুকুল দেরিতে এসেছে। তাদের পৈত্রিক ১২ বিঘার বাগানে এখন পর্যন্ত মুকুল হয়েছে ৭০ ভাগের বেশি। আশা করছি ভালো ফলন পাবো।
গোয়ালটুলি গ্রামের মনিরুল ইসলাম জানান, এবার শীত বেশি সময় থেকেছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসে বৃষ্টির কারণে মুকুল আসে দেরিতে। শীতের শেষে যখন তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে তখন থেকেই গাছে মুকুল দেখা দেয়।
তিনি জানান, এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহেও আশানুরূপ মুকুল আসেনি। বেশিরভাগ গাছেই মুকুলের দেখা মিলেছে অনেক দেরিতে। এখনো কোনো কোনো গাছে মুকুল বের হচ্ছে। চাষিরা মুকুল রক্ষায় প্রয়োজনীয় কীটনাশক, ছত্রাকনাশক ও সেচ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকলে আমের উৎপাদনও ভালো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
একই উপজেলা চটিগ্রামের আমচাষী আফজাল হোসেন জানান, তার ৫ বিঘা জমিতে ৪৫০ আম্রপালি ও ১০০ বারি-৪ গাছ আছে। এগুলো সবই খাটো জাত। বাগানের সব গাছেই প্রচুর মুকুল এসেছে। এখন যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে সব মুকুল ফুটেই গুটি বের হবে। মুকুল দেখে মনে হচ্ছে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হবে। এমন কোনো গাছ নেই যেখানে মুকুল নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ৫৫ লাখ আম গাছ আছে। গত বছর ৩৪ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে আম বাগান ছিল। উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ২.৬ হাজার টন। এবার ৭০ শতাংশ আম গাছে মুকুল এসেছে।
তিনি জানান, এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে শীতের মধ্যে ২ দফা বৃষ্টি হয়েছে। গড় বৃষ্টিপাত হয়েছিল ৪৫ মি.মি. ও ৫ মি.মি। এই ২ দফা বৃষ্টির কারণে মুকুল আসতে দেরি হয়েছে।
গতবছরও জেলায় প্রায় একই পরিমান আম গাছে মুকুলে এসেছিল এবং আমের ফলন বেশ ভালো ছিল। ফলে তুলনামুল কম দামে বাজারে আম পাওয়া গেছে।
কৃষি বিভাগ আশা করছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলায় এই মৌসুমে ৩ লাখ ২৫ হাজার টন আম উৎপাদন হবে।