খাদ্য আদালতের জরিমানার প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ে হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও

বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের অভিযানে ২ রেস্টুরেন্টকে জরিমানা করার প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট বন্ধ রেখেছেন মালিকরা।

জেলা হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, বেকারি মালিক সমিতি ও হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নসহ চাইনিজ রেস্টুরেন্টের যৌথ আহ্বানে গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

এতে জেলায় দুর্ভোগে পড়েছেন জনসাধারণ। বিশেষ করে বাইরে থেকে বিভিন্ন কাজে ঠাকুরগাঁও এসে বিপদে পড়েছেন অনেকেই।

এদিকে রোজার মাসে হঠাৎ শহরের রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ পরিস্থিতি আরও খারাপ পর্যায়ে গিয়েছে।

20220413_122919_0.jpg
ঠাকুরগাঁওয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, বেকারি মালিক সমিতি ও হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নসহ চাইনিজ রেস্টুরেন্টের যৌথ আহ্বানে সমাবেশ। ছবি: কামরুল ইসলাম রুবাইয়াত

রেডিমেড গার্মেন্টস ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী দ্য ডেইলি স্টারকে জানান সোমবার দুপুরে ব্যবসার কাজে তিনি ঠাকুরগাঁও এসেছেন।

তিনি বলেন, 'গতকাল হঠাৎ করে রেস্টুরেন্টে ধর্মঘট শুরু হওয়ায় রাতের খাবার ও সেহেরির খাবার ঠিকমতো সংগ্রহ করতে পারিনি।'

এ অবস্থায় কাজ অসম্পন্ন রেখেই আজ পঞ্চগড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

টাঙ্গাইল থেকে এসেছেন কাপড় ব্যবসায়ী নিয়ামত আলী। প্রতিবছর তিনি ৫-১০ রমজানে এখানে আসেন। খাবার দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুব বিরক্তিকর একটা অবস্থার মধ্যে পড়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, 'গতকাল রাতে উপায় না দেখে প্রায় ১২-১৩ কিলোমিটার দূরের এক হোটেল থেকে খাবার কিনে আনতে হয়েছে রাতের ও সেহরির জন্য।'

শহরের কলেজ পাড়ার এক কলেজশিক্ষক আইরিন পারভীন বলেন, 'রমজানে ইফতারের কিছু আইটেম রেস্টুরেন্ট থেকে সংগ্রহ করি। এছাড়া ইফতার অসম্পন্ন মনে হয়। এ সময় এ ধরণের সিদ্ধান্ত সুখকর নয়।'

জানা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি ও নষ্ট খাদ্যদ্রব্য বিক্রয়ের অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে দুটি রেস্টুরেন্টের প্রত্যেককে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকা জরিমানা করেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত।  

এর প্রতিবাদে গতকাল থেকে হোটেল বন্ধ রাখার পর আজ বুধবার দুপুরে শহরের চৌরাস্তায় হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বেকারি ও হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা মানববন্ধন কর্মসূচি ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।

জেলা হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি অতুল পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নাজমুল হুদা শাহ অ্যাপোলো, জেলা হোটেল রেস্তোরাঁ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলী বখতিয়ার উজ্জল।

বক্তারা বলেন, 'করোনা পরবর্তী নানা প্রতিকূলতার মাঝে হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ খাবার দোকানের মালিকেরা তাদের ব্যবসা চালাতে সংগ্রাম করছেন। এ সময় বর্তমান অবস্থা বিবেচনা না করে অযৌক্তিকভাবে দুটি রেস্টুরেন্টকে জরিমানা ও দুজন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।'

এই অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা পরিচালনা দুরূহ বলে উল্লেখ করেন তারা।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, 'জনগণের দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।'

গতকাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের একটি দল শহরের গাওসিয়া ও রোজ হোটেলে অভিযান চালায় এবং এই ২ প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ খাদ্য আইনে ৩ লাখ করে মোট ৬ লাখ টাকা জরিমানা করেন, অনাদায়ে ১ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেন।

আদালতের নির্দেশে গাওসিয়া হোটেলের ম্যানেজার পলাশ চন্দ্র রায় ও রোজ হোটেলের ম্যানেজার রুবেল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।