চারুকলার বৈশাখী আয়োজনে প্রশাসনের বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (ছবি) চারুকলার বৈশাখী আয়োজনে প্রশাসন থেকে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আয়োজন চলছে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব অর্থায়ন ও অনুদানে।
চারুকলার শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, মূল ক্যাম্পাসে চারুকলার অবস্থান না হওয়ায় বৈশাখ উৎসবের বরাদ্দ থেকে বারবার বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
নগরীর বাদশা মিয়া রোডে অবস্থিত চারুকলা ইনস্টিটিউটে সরেজমিনে দেখা গেছে, একদিকে অর্ধ তৈরি টুনটুনি পাখির ডামি পুতুল, অন্যদিকে রোদে শুকোতে দেওয়া নানা আকৃতির মুখোশ, কেউ মেশাচ্ছেন আলপনার রং। চবির চারুকলা ইনস্টিটিউটে নানা ব্যস্ততার মধ্যে দিন কাটছে শিক্ষার্থীদের। একদিন পরেই পয়লা বৈশাখ হলেও টাকার সমস্যার কারণে কাজ শেষ করতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে দুইটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একটি মূল ক্যাম্পাসে, অন্যটি মূল ক্যাম্পাস থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে চারুকলা ইনস্টিটিউটে।
এবার, চারুকলার শিক্ষার্থীরা ৫ লাখ টাকার বাজেট চাইলে, কোনো বাজেট দেওয়া হবে না বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে কিছু সময়ে জন্য থমকে যায় বৈশাখ বরণের আয়োজন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূল ক্যাম্পাসের বৈশাখী আয়োজনের জন্য ২টি ডামি পুতুল ও একটি মঞ্চ তৈরি করা বাবদ চারুকলার শিক্ষার্থীদের এক লাখ টাকা দেওয়া হবে। চারুকলার শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরাদ্দ দেওয়া এই টাকা দিয়েই হবে চারুকলার আয়োজন।
শিক্ষার্থীরা জানান, এটি তাদের কাজের পারিশ্রমিক। বিভাগের অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ নয়।
স্নাতকোত্তর বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার শিহাব জানান, গত ২ বছর করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো বৈশাখের আয়োজন হয়নি। আমরা চাই না এবারও এই উৎসব থেকে দূরে থাকতে। এ জন্য কর্তৃপক্ষের কথা মেনে নিতে বাধ্য হই। আমরা জেলা প্রশাসক থেকে কিছু অর্থ বরাদ্দ পেয়েছি।
মূল ক্যাম্পাস থেকে চারুকলা বিভাগের দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার। এই দূরত্বের কারণে প্রতিবছর নানা সুবিধার সঙ্গে বৈশাখী বাজেট থেকেও আমরা বাদ পড়ি, তিনি জানান।
বৈশাখ আয়োজন নিয়ে ১০ মার্চ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনা হয়।
আলোচনায় উপস্থিত থাকা একজন নাম না প্রকাশ করা শর্তে জানান, ২৬ মার্চের প্রোগ্রামে বৈশাখী আয়োজনের বাজেট খরচ করে ফেলা হয়েছে। বিগত দুই বছরের মতো এবারো ঈদের ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার ফলে বৈশাখী আয়োজন হবে না এমনটা মনে করা হয়েছিল। কিন্তু সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ আসার পর সীমিত অর্থে এই আয়োজন করা হচ্ছে।
স্নাতকোত্তর বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী জহির রায়হান অভি বলেন, '১০ মার্চ আমাদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের মিটিং হয়। সেই মিটিং এ আমাদের দিয়ে মূল ক্যাম্পাসের বৈশাখী বাজেট তৈরি করা হয়। কিন্তু চারুকলাকে প্রস্তুতি কাজের পারিশ্রমিক ছাড়া কোনো বাজেট দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন কর্তৃপক্ষ। ব্যাপারটা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে চারুকলা শিক্ষার্থীদের অর্থে চারুকলার বৈশাখ পালন করতে হচ্ছে।
চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রণব মিত্র চৌধুরী জানান, বাজেট সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা বৈশাখী আয়োজন ভালোভাবেই শেষ করব আশা করছি।
বৈশাখের আয়োজনের দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের ভুল বুঝছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিছু অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।