ছেলের আপত্তিতে জানাজা বন্ধ রেখে মরদেহ গেল ময়নাতদন্তে
জানাজার জন্য জড়ো হয়েছেন শতাধিক মানুষ। কবর খোড়াও শেষ। হঠাৎ করে গৃহত্যাগী এক সন্তান বাড়ি ফিরে বাবার মরদেহ দাফন বন্ধ করে দেন। সরকারের জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে তিনি পুলিশ ডেকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠান।
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের শ্রীবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে হাঁটতে বের হয়ে অটোরিকশার ধাক্কায় মারা যান জালাল উদ্দিন (৭০)। এরপর তার মরদেহ দাফনের সব প্রস্ততি নেয় ৫ সন্তান ও স্বজনরা। কিন্তু মেজ ছেলে নুরুল ইসলাম ফিরে এসে বাধা দেন।
এ বিষয়ে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াজুদ্দিন আহমেদ বিপ্লব দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ৯৯৯ এ ফোন পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সুরতহাল রিপোর্ট এবং স্থানীয়দের তথ্য মতে জালাল উদ্দিন অটোরিকশার ধাক্কায় নিহত হয়েছেন। কিন্তু তার মেজো ছেলে নুরুল ইসলাম ৯৯৯-এ ফোন করে অভিযোগ করছেন তার ভাইয়েরা মিলে বাবাকে হত্যা করেছে। তাই ময়না তদন্তের জন্য লাশ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জালাল উদ্দিনের বড় ছেলে তারা মিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, 'আমার ভাই নুরুল ইসলাম নেশাগ্রস্থ। সন্তানসহ স্ত্রীও তাকে ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে গেছে। এখন নুরুল ইসলাম কোথায় থাকে, কী করে তা কেউ জানে না। বাড়িতে কারও খোঁজ খবর নেয় না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বাবার সম্পত্তির ওয়ারিশ দাবি করে আসছিল। বাবা দিতে রাজি না হওয়ায় বাবা ও ভাইদের লাঠি-দা দিয়ে মারপিট করতে আসতো।'
তিনি আরও বলেন, 'বছর খানেক আগে আমার বাবা নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছেন। এই রাগেই বাবার লাশ দাফন করতে দেয়নি।'
স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন মিয়া জানান, জালাল উদ্দিনের জানাজা পড়তে তিনি শ্রীবাড়ী চৌরাস্তা মোড়ে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। তার মতো অনেকেই সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার মেজ ছেলে নুরুল ইসলাম জানাজা বন্ধ করে পুলিশকে খবর দেন।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রওশন আলম মোল্লাসহ স্থানীয়রা নুরুল ইসলামকে তার বাবার মরদেহ দাফন করার জন্য অনুমতি দিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না। পরে পুলিশ জালালের লাশ মর্গে নিয়ে যায়।
মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরশ্বাদ উল্লাহ জানান, কফিনে মোড়ানো অবস্থায় জালাল উদ্দিনের মরদেহ রাতে হাসপাতালের মর্গে পৌঁছেছে। আজ শুক্রবার ময়না তদন্ত সম্পন্ন হবে।
বৃহস্পতিবার অটোরিকশার ধাক্বায় গুরুতর আহন জালাল উদ্দিনকে মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মচারী ছিলেন।