তারা হুইলচেয়ারে এসে শ্রদ্ধা জানালেন শহীদদের

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার

মহান স্বাধীনতা দিবসে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রথম প্রহরে চলে গেলেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এরপর সকলের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে ঢল নামে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের।

সেই ঢলের মধ্যেই একদল মানুষ এসেছিলেন হুইলচেয়ারে বসে। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নিজেদের প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে চলে এসেছেন তারা।

পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি) থেকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত নারী ও শিশুসহ ১৩ জনের এই দলটি আসেন।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সময় তাদের মুখে হাস্যোজ্জ্বল প্রশান্তির ছাপ দেখতে পাওয়া যায়।

১৩ জনের দলটিতে ছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী তনন কুণ্ড জয়। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বীর শহীদরা নিজেদের উজাড় করে দিয়েছিলেন। অনেকে তাদের অঙ্গ হারিয়েছেন, কিংবা হারিয়েছেন সম্ভ্রম। আমাদের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আছে। এই প্রতিবন্ধকতার কারণে যদি আমরা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে কার্পণ্য করি তাহলে সেটা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা হবে।'

হুইলচেয়ারে বসে থাকা রুবেল তালুকদার বলেন, 'প্রতিবছরে আমাদের মতো কেউ না কেউ স্মৃতিসৌধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। এবার আমিও এসেছি। অনেকদিনের ইচ্ছা ছিল এখানে আসার। দেশের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পেরে প্রশান্তি অনুভব করছি। তাদের প্রতি হাজারও সালাম।'

সিআরপির সমাজ কল্যাণ বিভাগের প্রধান মো. শফিউল্লাহ বলেন, 'শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষদের মানসিকভাবে উৎফুল্ল রাখতে আমরা নানান উদ্যোগ নিয়ে থাকি। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসে আমরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসি।'