দিনমজুরদের দিয়ে গ্রাম পাহারার নির্দেশনা প্রত্যাহার
মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর ও দরবেশপুর গ্রামের সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের পারিশ্রমিক ছাড়া রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠে স্থানীয় পুলিশ ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গ্রাম পাহারার নির্দেশনা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় বারাদী পুলিশ ক্যাম্প থেকে পুলিশ সদস্যরা ওই গ্রামে গিয়ে জানিয়ে আসেন, তাদের আর পাহারা দিতে হবে না।
ফলে গতকাল রাতে দিনমজুরদের আর রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিতে হয়নি। এতে উচ্ছ্বসিত হয়ে তারা বলেছেন, 'ধন্যবাদ সাংবাদিক ভাইয়েরা'।
সাধারণ দিনমজুর ও খেটে খাওয়া এসব মানুষ অভিযোগ করেছিলেন, দিনভর পরিশ্রম করে রাতভর গ্রাম পাহারা দেন তারা। অপর দিকে যারা এ কাজে বাধ্য করেছেন রাতে তারা নিশ্চিন্তে ঘুমান। অভিযোগ উঠে স্থানীয় পুলিশ ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এই কাজে তাদেরকে বাধ্য করেন।
পাহারা প্রত্যাহারের পর দিনমজুর লাল মোহাম্মদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, 'গ্রামে বাস করতে গ্রামের মঙ্গলের জন্য কিছু করতেই হয়। কিন্তু এখানে বিষয়টি ছিল চরমভাবে বৈষম্যপূর্ণ। মনে হয়েছিল গ্রাম পাহারার কাজটি করবে গরীব মানুষ, আর নাকে তেল দিয়ে ঘুমাবে বড় লোকেরা। সমাজে ধনী-গরিব থাকবেই। তাই বলে ঘোষণা দিয়ে বৈষম্য করা এখনকার যুগে চলে না।'
তিনি আরও বলেন, 'আপনারা সংবাদ প্রকাশ করায় দ্রুত এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া গেছে। ধন্যবাদ সাংবাদিক ভাইয়েরা।'
রাত জেগে গ্রাম পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা হয় গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। রাজনগর ও দরবেশপুর গ্রামে প্রতিদিন ৩টি গ্রুপে ৩০ জন রাতে পাহারা দিতেন। এ কাজে নিযুক্ত করা হয় দিনমজুর, শ্রমিক, ভ্যানচালকদের।
স্থানীয়রা জানান, গ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি ওলিল হোসেন, সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, গ্রাম পুলিশিং কমিটির সভাপতি জুগিন্দা গ্রামের আইনাল হকসহ দরবেশপুর গ্রামের কয়েকজন নেতা বারাদী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ দেবাশীষ অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে সভা করে এই পাহারার ব্যবস্থা করেন।
গ্রাম আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আব্দুস সালাম আজ সকালে দাবি করেন, 'বিষয়টি যেভাবে সংবাদে তুলে ধরা হয়েছে তেমন নয়।'
গ্রামে চুরি বেড়ে যাওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'এখন সাংবাদিকরা এসে গ্রামের চুরি-রাহাজানি থামাবে।'
বারাদী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) দেবাশীষ অধিকারী জানান, দেশে অনেক গ্রামেই এমন করা হয়। গ্রামের মানুষই এমন ব্যবস্থা নেন। তবে, অভিযোগ আসায় বিষয়টি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মেহেরপুর সদর থানার ওসি শাহ দারা খান বলেন, 'গ্রামবাসীদের আগ্রহ থেকেই পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তারা না চাইলে এটি করা হবে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ রয়েছে।'
