দেশে খাদ্য সংকট-হাহাকার এ রকম কিছু হবে না: কৃষিমন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

আমাদের এখন খাদ্যশস্যের সর্বোচ্চ মজুত আছে এবং এ অবস্থায় দেশে কোনো খাদ্য সংকট, হাহাকার এ রকম কিছু হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

আজ বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময় করার সময় এ কথা বলেন তিনি।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্যের ওপর পড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব দেশে দ্রব্যমূল্যের উপর কিছুটা পড়েছে।'

আমাদের এখন খাদ্যশস্যের সর্বোচ্চ মজুত আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'দেশে ফসলের উৎপাদন ভাল। এছাড়া, এপ্রিলের ১৫ তারিখ থেকেই নতুন চাল আসবে। কাজেই, সব মিলিয়ে আমাদের কোনো মেজর প্রবলেম হবে না। কোনো খাদ্য সংকট, হাহাকার এ রকম কিছু হবে না।'

এর আগে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মহাপরিচালক কিউ দোংয়ুর সঙ্গে বৈঠক করেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

বৈঠকে কিউ দোংয়ু জানান, বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে এফএও কাজ করবে। এ বছর অক্টোবরে এফএও বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করবে। সেখানে তারা অন্যান্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও দাতা সংস্থাকে বাংলাদেশের কৃষিখাতের উন্নয়নে ও কৃষি খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তর করতে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করবে।

এ সময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের কৃষিখাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। আমরা বারিড পাইপ (ভূগর্ভস্থ লাইন) দিয়ে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে চাই। আমরা উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলে নতুন উদ্ভাবিত ফসলের জাতের সম্প্রসারণ করতে যাচ্ছি। পাহাড়ি এলাকায় উচ্চ মূল্যের ফসলের চাষ আরও বাড়াতে চাই। এছাড়া, কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাত করে ভ্যালু অ্যাড ও রপ্তানি করতে চাই। এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ প্রয়োজন।'

বৈঠক শেষে কৃষিমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন।

তিনি বলেন, 'ঢাকায় এফএওর সম্মেলন চলছে। এ উপলক্ষে এফএওর ডিজি বাংলাদেশে এসেছেন। এফএও কৃষি উন্নয়নে আমাদের সহযোগিতা করে। তারা আমাদের কারিগরি সহায়তা দেয়। ডোনারদের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।'

তিনি বলেন, 'কীটনাশকের ক্ষতিকর দিকগুলো যেন কমাতে পারি, সে বিষয়ে বৈশ্বিক নিয়ম তৈরি করে এফএও।'

'আমরা এখন দেশে ৫৭ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদন করছি। বাংলাদেশের আবহাওয়া ভুট্টার জন্য খুবই ভালো। বাংলাদেশে ভুট্টা উৎপাদনের ক্ষেত্রে এফএও বড় ভূমিকা রেখেছে। আমি মনে করি আগামীতে এফএওর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হবে,' যোগ করেন তিনি।