অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫
সরকারি সার্ভার থেকে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইনে বিক্রির অভিযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
আজ রোববার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
তবে এই চক্রটি কাদের মাধ্যমে সরকারি সার্ভারের তথ্য পেতো সেটি তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করেনি র্যাব।
গ্রেপ্তাররা হলেন—নওগাঁর বাসিন্দা আবদুস সালাম সরকার, গাজীপুরের সুব্রত চন্দ্র পাল, নোয়াখালীর ইসমাইল হোসেন সোহাগ, গোপালগঞ্জের এস এম নাফি এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জের মেহেদী হাসান।
অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, অনলাইনে তথ্য বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে। তারা বেশিদিন এই ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে না।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আবদুস সালাম নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির জন্য গত এপ্রিলে ‘ই সেবা টুয়েন্টিফোরডটটপ’ নামে একটি ‘এনক্রিপ্টেড ওয়েবসাইট’ তৈরি করেন। সেখানে অর্থের বিনিময়ে অর্ডার দিয়ে গোপনীয় নথি কিনতে পারতেন গ্রাহকরা।
নাঈমুল হাসান বলেন, সালাম ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন অফিসে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করেছেন।
তিনি বলেন, সহযোগীদের সহায়তায় সালাম বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে গোপনীয় নথি কেনাবেচা করতেন। এর মধ্যে ছিল—জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও জন্মনিবন্ধনের তথ্য, কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নিবন্ধন ও লেনদেনের তথ্য, সিমের মালিকানার তথ্য, আইএমইআই সার্চ ডেটা, রেডিও-লোকেশন ডেটা এবং মোবাইল সিমের সর্বশেষ অবস্থানের তথ্য।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার সুব্রত, ইসমাইল, নাফি ও মেহেদী ফেসবুকে প্রচারণা চালাতেন এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার নিতেন। তারা বিভিন্ন নাম ও পরিচয়ে নিবন্ধিত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ও সিম কার্ডের মাধ্যমে অবৈধ আর্থিক লেনদেন করতেন।
র্যাব-২-এর অধিনায়ক বলেন, তারা সরকারি সার্ভার থেকে তথ্য সংগ্রহ করায় অর্থের বিনিময়ে গ্রাহকদের সঠিক তথ্য সরবরাহ করছিল।
তবে অভিযান চলমান থাকায় অর্থের বিনিময়ে সরকারি সার্ভার থেকে তথ্য ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
নাঈমুল হাসান বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকেও এ ধরনের তথ্য পেতে বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলেই এ ধরনের নজরদারি তথ্য পেতে পারে না।
‘যখন কোনো ঘটনা ঘটে, যেমন কোনো গাড়ি হারিয়ে যায় বা মোবাইল ফোন চুরি হয়, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে সর্বশেষ অবস্থানের তথ্য পাওয়া কঠিন’, বলেন তিনি।
অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, আমাদের একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মামলা ছাড়া আমরা সিডিআর নিতে পারি না। আমরা যে তথ্য পাই, তা শুধু সরকারি কাজে ব্যবহার করা হয়। সাধারণ মানুষ সেই তথ্য পাচ্ছে, অর্থাৎ কেউ না কেউ এর সঙ্গে কাজ করছে। কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত তথ্য ফাঁসের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা আমরা পাননি।